গাজায় সাংবাদিকদের বহনকারী একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মধ্য গাজার একটি এলাকায় সংঘটিত এই হামলায় আরও একজন নিহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ আল জাজিরাকে জানান, বুধবার মধ্য গাজার তথাকথিত নেটজারিম করিডোরের কাছে আল-জাহরা এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হামলা চালায়। এতে ফটোসাংবাদিক আনাস গুনাইম, আব্দুল রাউফ এবং শাথ মোহাম্মদ কেশতা নিহত হন। তারা সবাই গাজায় ত্রাণ কার্যক্রম তত্ত্বাবধানকারী মিশরীয় সংস্থা ‘কমিটি ফর গাজা রিলিফ’-এর হয়ে কাজ করছিলেন।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তার পাশে বোমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে এবং ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া উঠছে। আল জাজিরার সাংবাদিকদের একটি দল জানিয়েছে, তিন সাংবাদিকের পাশাপাশি হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।
রিলিফ কমিটির মুখপাত্র মোহাম্মদ মনসুর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, নিহত সাংবাদিকরা একটি নতুনভাবে স্থাপিত বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরের ভিডিও ধারণ করছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, হামলার স্থানটি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত নেটজারিম করিডোর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানত যে গাড়িটি একটি মিশরীয় ত্রাণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর রেডিও জানিয়েছে, মধ্য গাজায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ওই গাড়ির যাত্রীরা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে একটি ড্রোন ব্যবহার করছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্য গাজা উপত্যকায় হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে ড্রোন পরিচালনা করতে দেখা যায়, যা সেনাদের জন্য হুমকি তৈরি করছিল। সে কারণে নির্ধারিত কমান্ড চেইনের অনুমোদন অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের সূত্র জানায়, মধ্য গাজায় পৃথক এক হামলায় পূর্ব দেইর এল-বালাহ এলাকায় একই পরিবারের তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। দক্ষিণ গাজায়ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে এপি জানিয়েছে, বানি সুহেইলা এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া খান ইউনিসের আশপাশে পৃথক ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন এবং উত্তর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটেছে।
প্রসঙ্গত, অক্টোবর মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৬৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজার ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।