২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য, মিডওয়াইফারি শিক্ষার মানোন্নয়নে আধুনিক হচ্ছে ৬২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৩:৩৮:০৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৩:৩৮:০৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট মোকাবিলায় সরকারের এসব পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে ‘মিডওয়াইফারি ত্বরান্বিতকরণ ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তায় দক্ষিণ-দক্ষিণ অংশীদারত্ব: সংকট থেকে সহনশীলতার পথে’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রতিটি মা ও নবজাতকের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মাধ্যমে গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগীকে উপযুক্ত কেন্দ্রে পাঠানো এবং প্রসব-পরবর্তী সেবার মান উন্নয়ন করা সম্ভব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, মিডওয়াইফদের পেছনে বিনিয়োগকে শুধু ব্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমানো এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যয় হ্রাসে এটি কার্যকর জাতীয় বিনিয়োগ।
মিডওয়াইফারি শিক্ষার মান উন্নয়নে দেশের ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, সিমুলেশনভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে জ্ঞান ও শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে উন্নয়ন সহযোগীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সহায়তার প্রশংসা করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে মিডওয়াইফদের অবদানের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংকটের সময়েও জীবনরক্ষাকারী মাতৃস্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে মিডওয়াইফরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে মিডওয়াইফদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও তাঁদের পেছনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।