রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগ বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএইটিই) অ্যাক্রেডিটেশনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ‘নবীনবরণ, বিদায় সংবর্ধনা ও বিএইটিই অ্যাক্রেডিটেশন (ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড) উদযাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে রুয়েট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মূল পর্ব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ওয়াটসন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন রুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, ইইই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপ-পরিচালক জেড এইচ এম মনজুর মোর্শেদ।
এ ছাড়া তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল অ্যাসোসিয়েশন, রুয়েটের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জি. কে. এম. হাসানুজ্জামান, সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানাসহ বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য ও স্মৃতিচারণ করা হয়। এ সময় শিক্ষকদের সম্মাননা স্মারক, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের সিগনেটারি দেশগুলোর প্রকৌশল শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকার কারণে এ স্বীকৃতি ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল খাতে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিভাগের শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের পেশাগত ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপাচার্য।
ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। কর্মজীবনের প্রস্তুতির জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট খাতের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হয়ে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরিতে তরুণ প্রকৌশলীদের ভূমিকা রাখার জন্য উৎসাহিত করেন।
তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রকৌশলীদের অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, মনুষ্যত্ব, মানবিকতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছাড়া শিক্ষাগত অর্জন পূর্ণতা পায় না।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ‘রুয়েট’ নামটি জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বাড়াতে পারে, আবার নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রভাবও প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়তে পারে। তাই রুয়েটের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেদের আচরণ ও কাজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ইইই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বিএইটিই অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের পর বিভাগের একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে নেওয়া বিভিন্ন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া নেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক মূল্যায়ন ও ফিডব্যাকের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভাগের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএইটিই অ্যাক্রেডিটেশনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের স্বীকৃতি রুয়েটের ইইই বিভাগের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর ফলে বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও প্রকৌশল পেশায় কাজের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি হতে পারে।