ঢাকায় অবস্থিত কয়েকটি দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে ই-মেইল পাঠিয়ে চাঁদা দাবি এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে ‘ভুয়া গ্রুপের কাজ’ বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কিংবা সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ই-মেইল পাঠানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
বিভিন্ন দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে চাঁদা দাবি ও হুমকির বিষয়ে ডিবি প্রধান বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহার করে একটি গ্রুপের নামে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশের ধারণা, এটি কোনো প্রকৃত সংগঠনের কার্যক্রম নয়; বরং একটি ভুয়া গ্রুপের পরিচয়ে এসব ই-মেইল পাঠানো হচ্ছে।
ই-মেইলে দেওয়া বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে তিন থেকে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান শফিকুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ।
কতটি দূতাবাসে এ ধরনের ই-মেইল পাঠানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান জানান, এখন পর্যন্ত তিন থেকে চারটি দূতাবাসের পাশাপাশি সরকারি কয়েকটি দপ্তরেও চাঁদা দাবি করে হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি কেবল হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী এর পেছনে পূর্বশত্রুতা থাকতে পারে। পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা বা সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যেও এমন কর্মকাণ্ড চালানো হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি ডিবি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিবি প্রধান। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পুলিশ।