গত বুধবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ নিশ্চিত করে যে, বিমান সংস্থাটি নিজেদের সার্বিক পরিচালনব্যবস্থা ও নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনায় তাদের ওপর থেকে এসব বিধিনিষেধ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এয়ারলাইনটির পাশাপাশি তাদের মালিকানাধীন দুটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফ্লাই বাগদাদ এয়ারলাইন্স তাদের পরিচালনগত বিধিনিষেধ কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি তাদের পূর্ববর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিহার করায় তাদের আর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশালি ডিজাইনটেড ন্যাশনালস’ বা কালোতালিকায় রাখার যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওফাক) কর্তৃক প্রদত্ত এই সিদ্ধান্তটি মূলত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ পরিবর্তনের ভিত্তিতে প্রয়োগ করা একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া।
তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইরান-সংক্রান্ত মার্কিন নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে হোয়াইট হাউস। ওই মার্কিন কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, ফ্লাই বাগদাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মানে ইরানের বর্তমান সরকার, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রতি মার্কিন নীতির কোনো শিথিলতা বা পরিবর্তন নয়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিরসন কিংবা যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে এই ট্রেজারি সিদ্ধান্তের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ফ্লাই বাগদাদ তাদের পরিচালনপদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট কী ধরনের পরিবর্তন এনেছে, সে সম্পর্কে ট্রেজারি বিভাগ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন প্রশাসন পরিষ্কারভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে যদি বিমান সংস্থাটি পুনরায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে কিংবা শর্ত ভঙ্গ করে, তবে যেকোনো সময় তাদের ওপর পুনরায় একই ধরনের কঠোর কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা বহাল করা হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট