বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় জাঙ্কফুড অনেকের খাদ্যাভ্যাসের অংশ হয়ে উঠেছে। বার্গার, পিজ্জা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার সহজলভ্য হওয়ায় এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে নিয়মিত ও অতিরিক্ত জাঙ্কফুড গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
জাঙ্কফুডে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি, লবণ, চর্বি এবং ক্যালোরি থাকে, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন এসব খাবার বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।
অতিরিক্ত জাঙ্কফুড গ্রহণ স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্থূলতা আবার হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বেশিরভাগ জাঙ্কফুডে খাদ্যআঁশের পরিমাণ কম থাকে। ফলে এসব খাবার নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ দাঁতের ক্ষয় এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জাঙ্কফুড গ্রহণ উদ্বেগের একটি বিষয়। কারণ, এ ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেক জাঙ্কফুডে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। এসব উপাদান রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ।
নিয়মিত জাঙ্কফুডের পরিবর্তে ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়। সুষম খাদ্য গ্রহণ শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা গেলে অতিরিক্ত জাঙ্কফুড গ্রহণ থেকে বিরত থাকা ও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম ।