দায়িত্ব পালনে গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহ পেলেন পুলিশ সদস্য
কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের ছেলে হিসেবে শনাক্ত করেন এক পুলিশ সদস্য।
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৪-০৭-২০২৬ ১১:৪০:০৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-০৭-২০২৬ ১১:৪০:০৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১২৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তার বাবা, পুলিশ সদস্য শামসুল হক। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার টহল দলের চালক হিসেবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, নিহত শিশুটিই তাঁর নিজের সন্তান। এ ঘটনায় পরিবার, সহকর্মী এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যায় গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তুহিন। ওসি থেকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টহল দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সদস্য শামসুল হক। সেখানে গিয়ে নিজের ছেলের নিথর দেহ দেখে তিনি ভেঙে পড়েন। শোকাহত কণ্ঠে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের সন্তানের এমন পরিণতি কখনো কল্পনাও করেননি এবং এই বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
নিহত তুহিন বাবা, মা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে গাইটাল জনতা স্কুলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল মেজ। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা সদর এলাকায়।
টহল দলের নেতৃত্বে থাকা উপপরিদর্শক ফজলে রাব্বি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিদিনের মতো ঘটনাস্থলে গেলেও এবার এক ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুটি সহকর্মী শামসুল হকের ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা কারও ছিল না। উপস্থিত স্থানীয় লোকজনও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সকালে সাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে গেলে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তুহিনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে তুহিনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ নেত্রকোনা সদরে নেওয়া হলে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।