রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ, কড়াই নিয়ে থানায় কর্মচারীরা
রান্নার সময় মাংসের অস্বাভাবিক রং পরিবর্তনের ঘটনায় তদন্তের দাবি
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১০:২৩:২৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১০:২৩:২৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৮৯ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার পাইকগাছায় পিকনিকের জন্য কেনা গরুর মাংস রান্নার সময় হঠাৎ লাল রং থেকে সবুজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ২২ জুলাই দুপুরে পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও কার্যালয় এবং পরে থানায় যান। যদিও এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মডার্ন বেকারির ২৫ জন কর্মচারী একসঙ্গে ভোজের আয়োজন করেন। সকালে কর্মচারী লিটন হোসেনসহ তিনজন পাইকগাছা বাজারের মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের দোকান থেকে চার কেজি গরুর মাংস কেনেন। সেদিন সকালে জবাই করা মাংস শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রেতা আগের দিন ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস দেন বলে জানা যায়।
বেকারির কর্মচারীদের দাবি, স্বাভাবিক নিয়মে তেল মসলা দিয়ে রান্না শুরু করার কিছু সময় পর মাংসের রং ধীরে ধীরে নীলচে সবুজ হয়ে যায়। রান্না যত এগোতে থাকে, রং তত গাঢ় হতে থাকে। বিষয়টি দেখে তারা রান্না বন্ধ করে প্রথমে মাংস বিক্রেতার কাছে যান। পরে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ পেয়ে রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে থানায় যান। পরে মাংসটি ফেলে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কড়াইভর্তি সবুজ রঙের মাংস নিয়ে বেকারির কর্মচারীদের দেখা যায়। তাদের একজন জানান, রান্নায় কোনো ধরনের রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। মাংস কড়াইয়ে দেওয়ার পরই অস্বাভাবিক রং পরিবর্তন শুরু হয়। তারা মাংসের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, একই ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস তিনি আরও ১০ থেকে ১২ জন ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন। অন্য কোনো ক্রেতার কাছ থেকে এমন অভিযোগ আসেনি। তার ধারণা, বেকারিতে ব্যবহৃত কোনো রাসায়নিক বা অন্য কোনো কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে এই দাবি বেকারির কর্মচারীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম বলেন, খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে যাওয়া মাংস দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এর আগে এমন ঘটনা তিনি কখনো দেখেননি।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তারা তা করেননি। কিছুক্ষণ পর তারা কড়াই নিয়ে চলে যান।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।