ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ , ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বারে সংঘর্ষে যুবক নিহত, অভিযুক্তেরও মৃত্যু নেপালে সহায়তায় ৩১ মিলিয়ন ডলার চাইলো রেড ক্রস সৌদি আরবে অবৈধভাবে কাজ করলে ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা ও কারাদণ্ড তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সমীকরণ নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯, নতুন ঝুঁকি নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে বাংলাদেশিদের হতাহতের খবর নেই সরকারি বাড়ি বিক্রির ১৫ মামলায় মির্জা আব্বাস খালাস ভুটানের রাজাকে ঢাকায় রাষ্ট্রপতির অভ্যর্থনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক লালমনিরহাট সীমান্তে কৃষকদের ধস্তাধস্তির মুখে অস্ত্র ফেলে পালাল বিএসএফ আশিক চৌধুরীর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা লাভ দীর্ঘ ১৬ বছর পর মিলল পরিচয়, তবে জীবিত নয়—নিথর মরদেহ দিল্লিতে ভারী বৃষ্টির জেরে রেড অ্যালার্ট জারি, বিপর্যস্ত জনজীবন ট্রান্সজেন্ডারবাদ,হিযবুত তাওহীদ ও কাদিয়ানীদের নিষিদ্ধের দাবি বাবুনগরীর বাণিজ্যিক কোচিংয়ে যুক্ত হতে পারবেন না বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা গণহত্যা স্মরণে উখিয়ায় লাখো রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন দাবিতে সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ‘লোকদেখানো’ দাবি মার্কিন সিনেটরের রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরার সুফল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার আবেদন খারিজ করল এলাহাবাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নেপালে জেন-জি আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সরকার

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০৭:৪১:২৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০৭:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ৪৮ বার পঠিত
নেপালে জেন-জি আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সরকার ছবি: সংগৃহীত
তরুণ প্রজন্মের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছিলেন বালেন্দ্র শাহ। কিন্তু এক বছর না পেরোতেই সেই জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন তিনি।

রাজধানী কাঠমাণ্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন থেকে এখন তার পদত্যাগের দাবি উঠছে।

গত এপ্রিল থেকে কাঠমাণ্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে সরকার। প্রশাসনের দাবি, অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি বস্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এতে ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। পরে তাদের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।

এর মধ্যে গত ২ জুলাই নেপাল সরকার নির্দেশ দেয়, ৬ জুলাইয়ের মধ্যে সব আশ্রয়কেন্দ্র খালি করতে হবে। তবে অন্তত ৬০টি পরিবার সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের বক্তব্য, আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা তাদের নেই।

এ নিয়ে আগে থেকেই ছোটখাটো বিক্ষোভ চলছিল। তবে শুক্রবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কাঠমাণ্ডুর একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫০ জনকে রাখা হয়েছিল। সেখানে বন্যার পানি ঢুকে পড়লে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়।

শনিবার পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে যায় জেন-জি তরুণদের একটি দল। এ সময় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে একজন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন। এরপরই নেপালজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার কাঠমাণ্ডুর পাসপোর্ট অফিসের সামনে সরকারি জায়গায় মোটরসাইকেল রাখার অভিযোগে গণেশ নেপালি নামে এক ব্যক্তিকে এক হাজার নেপালি রুপি জরিমানা করা হয়।

অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবার সঙ্গে যুক্ত গণেশ যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দিতেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি জরিমানার অর্থ দিতে অপারগতার কথা জানালেও কাঠমাণ্ডু মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে অর্থ পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকে।

একপর্যায়ে তর্কের মধ্যে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন গণেশ। পরে আগুন নিভিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কাঠমাণ্ডুর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার ভোরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনার পর নেপালের পার্লামেন্টে বালেন্দ্র সরকারের সমালোচনায় সরব হয় নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ও নেপালি কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো।

বিক্ষোভের মধ্যে ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে নেপাল সরকার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কয়েকজন সমাজকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে বালেন্দ্র শাহের সরকার।

এরপর রবিবার যৌথ জাতীয় বস্তিবাসী ফ্রন্টের ডাকে রাজধানীর একটি সরকারি দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী।

তাদের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল, ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ কর’, ‘মানবাধিকার রক্ষা কর’, ‘বেআইনি গ্রেফতারি চলবে না’ এবং ‘ভূমিহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দাও’।

গত বছর নেপালের জেন-জি আন্দোলনে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন তরুণ।

প্রাথমিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা দেশটির ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে রূপ নেয়।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নামেন তরুণেরা। আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হন ওলি।

এরপর গত ৫ মার্চ নেপালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বালেন্দ্র শাহের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)।

পরে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের এই নেতাকেই এখন পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টাইমস

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।