গ্যাস্ট্রিক থেকে বাঁচতে করণীয়: খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে সচেতন হলে কমবে ঝুঁকি
- আপলোড সময় : ১৩-০৬-২০২৬ ১১:০২:১৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-০৬-২০২৬ ১১:০২:১৩ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬৭ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
বর্তমান সময়ে গ্যাস্ট্রিক, অম্বল, বুক জ্বালাপোড়া ও বদহজমের সমস্যা অনেক মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব গ্যাস্ট্রিকের অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
একবারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পরিবর্তে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খাওয়া হজমের জন্য বেশি উপকারী। অতিরিক্ত খাওয়া বা খুব দ্রুত খাবার খেলে বদহজম ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকাও অনেকের ক্ষেত্রে অস্বস্তি ও অম্বলের কারণ হতে পারে।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও ঝালযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেকের ক্ষেত্রে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চা-কফি, ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। কোন খাবার খেলে সমস্যা বাড়ে তা লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন। তবে খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত কোমল পানীয় বা কার্বনেটেড ড্রিংকস গ্রহণ না করাই ভালো। ফলমূল, শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
ধূমপান ও মদ্যপান গ্যাস্ট্রিক এবং পাকস্থলীর প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান পাকস্থলীর স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। অতিরিক্ত অ্যালকোহলও পাকস্থলীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অনেকেই ব্যথানাশক ওষুধ নিয়মিত সেবন করেন। চিকিৎসকদের মতে, কিছু ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে পাকস্থলীর আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাস্ট্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন এসব ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।
বারবার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে শুধুমাত্র অ্যান্টাসিড খেয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ কিছু ক্ষেত্রে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি (H. pylori) সংক্রমণ, আলসার বা অন্যান্য পাকস্থলীর রোগ এর পেছনে দায়ী থাকতে পারে। দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নিয়মিত ও পরিমিত খাবার গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান বর্জন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাস এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।