দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও র্যাগিং নামক অপসংস্কৃতি উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। নতুন শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করার এই প্রবণতা শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব বা পরিচয়ের নামে শুরু হলেও তা ভয়ভীতি, অপমান এবং নির্যাতনের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এমনিতেই চ্যালেঞ্জের বিষয়। সেখানে সিনিয়রদের অসদাচরণ, অশালীন আচরণ কিংবা জোরপূর্বক বিভিন্ন কাজ করানোর ঘটনা নবীনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কেউ কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, আবার অনেকে দীর্ঘদিন ট্রমার মধ্যে ভোগেন।
র্যাগিং কোনোভাবেই ঐতিহ্য বা মজা হতে পারে না; এটি একটি সামাজিক ও মানসিক নির্যাতন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে এ ধরনের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদেরও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র্যাগিংবিরোধী নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে ইতিবাচক কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে ।
শিক্ষাঙ্গন জ্ঞান, মানবিকতা ও নৈতিকতার জায়গা। তাই র্যাগিংয়ের মতো অপসংস্কৃতি বন্ধ করে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সকলের প্রত্যাশা।
ডেস্ক রিপোর্ট