চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে বাসে ঘুমিয়ে পড়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী ভুল স্থানে নামার পর ছিনতাইকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। বাস থেকে নামার পরপরই তিনি একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠলেও, সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অপরাধীরা তার কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয়, এতে গুরুতর আঘাতে তার মৃত্যু হয়।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর বুলেট বৈরাগী ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে তিনি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ও কোটবাড়ি বিশ্বরোডের মতো তুলনামূলক নিরাপদ স্থানগুলো অতিক্রম করে ফেলেন। পরে ঘুম ভেঙে নামার কথা বললে বাসের হেলপার তাকে মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায় নামিয়ে দেন, যা অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
রাত ১টা ২৫ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন তিনি। তখন তিনি জানান, তার ফিরতে দেরি হবে। এরপর আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। ঘুমের কারণে নির্ধারিত গন্তব্য অতিক্রম করায় তাকে অনিরাপদ স্থানে নামতে হয়, যা পরবর্তীতে তার জন্য প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বাস থেকে নামার পর তিনি জাঙ্গালিয়া যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজছিলেন। এসময় সিএনজি চালিত অটোরিকশায় থাকা একদল পেশাদার ছিনতাইকারী তাকে লক্ষ্য করে এবং গন্তব্য জেনে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে তারা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং চলন্ত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র্যাব, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে। র্যাব ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ৪১তম বিসিএসের মাধ্যমে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাটি মহাসড়ক নিরাপত্তা ও যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট