দূষিত পানি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দূষিত পানি পান করার ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পানির উৎস যেমন নদী, পুকুর বা নলকূপ বিভিন্নভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, ড্রেনের পানি, কীটনাশক এবং ময়লা-আবর্জনা পানির সঙ্গে মিশে তা মারাত্মকভাবে অস্বাস্থ্যকর করে তোলে।
গ্রামীণ এলাকাগুলোতে অপরিকল্পিত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে পানির উৎস সহজেই দূষিত হয়ে যায়। অনেক সময় খোলা জায়গায় মলত্যাগ বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে জীবাণু পানিতে মিশে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। শুধু পান করার মাধ্যমে নয়, দূষিত পানি দিয়ে রান্না করা বা দৈনন্দিন কাজকর্মেও নানা ধরনের রোগ ছড়াতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং পরিবার ও সমাজ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা এবং পানি ব্যবহারের আগে ফুটিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া পানি সংরক্ষণের পাত্র পরিষ্কার রাখা এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানোও খুবই প্রয়োজন। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দূষিত পানির ঝুঁকি থেকে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। তাই এখনই প্রয়োজন এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
ডেস্ক রিপোর্ট