বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনের ব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলেছে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা বিনোদনের জন্য মানুষ দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, চোখে জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা এবং চোখে পানি আসার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে রাতে ঘুমের সমস্যা ও মনোযোগের ঘাটতিও তৈরি হয়। এই সমস্যাগুলো দীর্ঘমেয়াদে চোখের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, তাই সময়মতো সচেতন হওয়া জরুরি।
চোখের সুরক্ষার জন্য স্ক্রিন ব্যবহারের মাঝে বিরতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করলে চোখ অনেকটা স্বস্তি পায়, অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো উচিত। পাশাপাশি স্ক্রিনের ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রণে রাখা , সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা দরকার। প্রয়োজনে ব্লু-লাইট ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে বাইরে সময় কাটানো, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ চোখের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নজরদারি বিশেষভাবে জরুরি। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাও প্রয়োজন। তাই সুস্থ চোখ ও স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে এখনই স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
ডেস্ক রিপোর্ট