দেশে নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি মিলছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদা, মজুতদারি এবং উৎপাদন ঘাটতির মতো কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংকটের পেছনে প্রধান চারটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আতঙ্কে সাধারণ ক্রেতারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি কিনছেন। দ্বিতীয়ত, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চালক অবৈধভাবে তেল মজুত করছেন। তৃতীয়ত, গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় কনডেনসেটের সরবরাহ কমেছে, যা পেট্রোল-অকটেন উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারির সীমিত সক্ষমতার কারণেও উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে।
পেট্রোল উৎপাদনে রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারির পাশাপাশি বেসরকারি ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিটগুলোর ভূমিকা রয়েছে। তবে এসব প্ল্যান্টের সম্মিলিত উৎপাদন দিয়েও পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট কমে যাওয়ায় উৎপাদন আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। Sylhet Gas Fields Limited-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ ব্যারেল অকটেন এবং ৩,৪০০ থেকে ৩,৪৫০ ব্যারেল পেট্রোল উৎপাদন হচ্ছে, যা জাতীয় চাহিদার একটি অংশই পূরণ করতে পারছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রিফাইনারিতে উৎপাদন কমে গেছে। একই সঙ্গে কনডেনসেট উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়াও সংকটকে তীব্র করেছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, বর্তমানে সরকার নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে তেল নেওয়ার প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদন বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বাজারে অযৌক্তিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
ডেস্ক রিপোর্ট