ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাওনিয়ার বেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি ও পিটিশন কমিটির সভাপতি হলেন স্পিকার আরব আমিরাতে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে জাতিসংঘে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ভারতের তিন আন্তঃদেশীয় ট্রেন ফের চালুর আলোচনা সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা ৫০ শতাংশ কমাল সরকার সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, জানাল হুতি গণমাধ্যম মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আইআরজিসির দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা এআইয়ের ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাড়ছে অনলাইন প্রতারণা বিদ্যুৎ নিয়ে কটূক্তিতে গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহর জামিন নামঞ্জুর এক ঠিকানায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি তথ্য নিয়ে এলো ‘অ্যাডমিশন হাব’ নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের এমডি কারাগারে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর জবার দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকারের গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার রোহিঙ্গা সংকট এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে বিপজ্জনক ধোঁয়াশায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিলের সুপারিশ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে মন্ত্রী আইসিইউতে : আসিফ মাহমুদ আফগানিস্তানে এতিম, বিধবার মাঝে সাড়ে ১২ বিলিয়ন আফগানি বিতরণ

নদীভাঙন প্রতিরোধের উপায়: টেকসই সমাধান ও কার্যকর উদ্যোগ

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০৪:১৬:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০৪:১৬:৫৩ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৭৩ বার পঠিত
নদীভাঙন প্রতিরোধের উপায়: টেকসই সমাধান ও কার্যকর উদ্যোগ প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলই নদী ও উপনদী দ্বারা বেষ্টিত। এই নদীগুলো যেমন দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নদীভাঙন একটি বড় ধরনের দুর্যোগ হিসেবে দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে তীরবর্তী এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে।

নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ বা বালুর বস্তা ফেলে সাময়িক সমাধান করলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বোঝা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য কংক্রিট ব্লক, জিও ব্যাগ, বালুর বস্তা ও পাথর ফেলা বর্তমানে প্রচলিত একটি পদ্ধতি। তবে এসব পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই প্রকৌশলগত মান বজায় রেখে নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নদীর ড্রেজিং বা খনন কার্যক্রম জোরদার করা। নদীর তলদেশে পলি জমে গেলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তীরভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ড্রেজিং করলে নদীর গভীরতা ও প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে, যা ভাঙন কমাতে সহায়তা করে।

নদীর তীরবর্তী এলাকায় বৃক্ষরোপণও একটি কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে, ফলে সহজে ভাঙন ঘটে না। বিশেষ করে বাঁশ, বকুল, বাবলা, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নদীর তীর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বারবার একই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন করে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন এবং বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

নদী ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। স্যাটেলাইট ডাটা, জিআইএস প্রযুক্তি এবং হাইড্রোলজিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে নদীর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আগাম সতর্কতা প্রদান করা সম্ভব। এতে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। নদীভাঙন প্রতিরোধ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রক্রিয়া। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নদীভাঙনের ক্ষতি কমিয়ে এনে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।