ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৩৫৩ জন আটক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুপারিশ তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রস্তাব ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য বৈঠক শেষ আজ, আলোচনায় শুল্ক ও বাণিজ্য ঘাটতি রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ এশিয়ার বাজারগুলোতে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি অবসরভাতা পেতে শিক্ষকদের ভোগান্তি বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে খাদ্য নিরাপত্তায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক পাকিস্তান ও ভারতীয়দের তুলনায় বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: WHO যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী কেন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা? অক্টোবরে বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পেতে পারেন সরকারি চাকরিজীবীরা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই হতে হবে: তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা প্রকাশ এস জয়শঙ্করের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন জ্বালানি আজ দেশে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া দুই ঈদকে সরকারি ছুটির স্বীকৃতি ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের,হুতিদের অস্বীকার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ

নদীভাঙন প্রতিরোধের উপায়: টেকসই সমাধান ও কার্যকর উদ্যোগ

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০৪:১৬:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০৪:১৬:৫৩ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ২২২ বার পঠিত
নদীভাঙন প্রতিরোধের উপায়: টেকসই সমাধান ও কার্যকর উদ্যোগ প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলই নদী ও উপনদী দ্বারা বেষ্টিত। এই নদীগুলো যেমন দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নদীভাঙন একটি বড় ধরনের দুর্যোগ হিসেবে দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে তীরবর্তী এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে।

নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ বা বালুর বস্তা ফেলে সাময়িক সমাধান করলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বোঝা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য কংক্রিট ব্লক, জিও ব্যাগ, বালুর বস্তা ও পাথর ফেলা বর্তমানে প্রচলিত একটি পদ্ধতি। তবে এসব পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই প্রকৌশলগত মান বজায় রেখে নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নদীর ড্রেজিং বা খনন কার্যক্রম জোরদার করা। নদীর তলদেশে পলি জমে গেলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তীরভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ড্রেজিং করলে নদীর গভীরতা ও প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে, যা ভাঙন কমাতে সহায়তা করে।

নদীর তীরবর্তী এলাকায় বৃক্ষরোপণও একটি কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে, ফলে সহজে ভাঙন ঘটে না। বিশেষ করে বাঁশ, বকুল, বাবলা, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নদীর তীর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বারবার একই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন করে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন এবং বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

নদী ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। স্যাটেলাইট ডাটা, জিআইএস প্রযুক্তি এবং হাইড্রোলজিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে নদীর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আগাম সতর্কতা প্রদান করা সম্ভব। এতে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। নদীভাঙন প্রতিরোধ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রক্রিয়া। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নদীভাঙনের ক্ষতি কমিয়ে এনে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।