ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ , ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বারে সংঘর্ষে যুবক নিহত, অভিযুক্তেরও মৃত্যু নেপালে সহায়তায় ৩১ মিলিয়ন ডলার চাইলো রেড ক্রস সৌদি আরবে অবৈধভাবে কাজ করলে ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা ও কারাদণ্ড তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সমীকরণ নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯, নতুন ঝুঁকি নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে বাংলাদেশিদের হতাহতের খবর নেই সরকারি বাড়ি বিক্রির ১৫ মামলায় মির্জা আব্বাস খালাস ভুটানের রাজাকে ঢাকায় রাষ্ট্রপতির অভ্যর্থনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক লালমনিরহাট সীমান্তে কৃষকদের ধস্তাধস্তির মুখে অস্ত্র ফেলে পালাল বিএসএফ আশিক চৌধুরীর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা লাভ দীর্ঘ ১৬ বছর পর মিলল পরিচয়, তবে জীবিত নয়—নিথর মরদেহ দিল্লিতে ভারী বৃষ্টির জেরে রেড অ্যালার্ট জারি, বিপর্যস্ত জনজীবন ট্রান্সজেন্ডারবাদ,হিযবুত তাওহীদ ও কাদিয়ানীদের নিষিদ্ধের দাবি বাবুনগরীর বাণিজ্যিক কোচিংয়ে যুক্ত হতে পারবেন না বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা গণহত্যা স্মরণে উখিয়ায় লাখো রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন দাবিতে সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ‘লোকদেখানো’ দাবি মার্কিন সিনেটরের রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরার সুফল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার আবেদন খারিজ করল এলাহাবাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নদীভাঙন প্রতিরোধের উপায়: টেকসই সমাধান ও কার্যকর উদ্যোগ

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০৪:১৬:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ০৪:১৬:৫৩ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৫৬ বার পঠিত
নদীভাঙন প্রতিরোধের উপায়: টেকসই সমাধান ও কার্যকর উদ্যোগ প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলই নদী ও উপনদী দ্বারা বেষ্টিত। এই নদীগুলো যেমন দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নদীভাঙন একটি বড় ধরনের দুর্যোগ হিসেবে দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে তীরবর্তী এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে।

নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ বা বালুর বস্তা ফেলে সাময়িক সমাধান করলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বোঝা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য কংক্রিট ব্লক, জিও ব্যাগ, বালুর বস্তা ও পাথর ফেলা বর্তমানে প্রচলিত একটি পদ্ধতি। তবে এসব পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই প্রকৌশলগত মান বজায় রেখে নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নদীর ড্রেজিং বা খনন কার্যক্রম জোরদার করা। নদীর তলদেশে পলি জমে গেলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তীরভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ড্রেজিং করলে নদীর গভীরতা ও প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে, যা ভাঙন কমাতে সহায়তা করে।

নদীর তীরবর্তী এলাকায় বৃক্ষরোপণও একটি কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে, ফলে সহজে ভাঙন ঘটে না। বিশেষ করে বাঁশ, বকুল, বাবলা, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নদীর তীর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বারবার একই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন করে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন এবং বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

নদী ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। স্যাটেলাইট ডাটা, জিআইএস প্রযুক্তি এবং হাইড্রোলজিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে নদীর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আগাম সতর্কতা প্রদান করা সম্ভব। এতে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। নদীভাঙন প্রতিরোধ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রক্রিয়া। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নদীভাঙনের ক্ষতি কমিয়ে এনে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।