ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা লাখো বাংলাদেশি কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু বর্তমান কর্মসংস্থানই নয়, নতুন করে বিদেশে কাজের সুযোগও সংকুচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের দেশে কর্মরত আছেন। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই এই অঞ্চলের শ্রমবাজারে নিয়োজিত। গত বছর বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশই কাজ পেয়েছেন সৌদি আরবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
অভিবাসন বিশ্লেষক আসিফ মুনির বলেন, এই পরিস্থিতির প্রভাব দুইভাবে দেখা দিতে পারে। যারা ইতোমধ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের পরিকল্পনায় বিলম্ব হতে পারে। আবার যারা ইতোমধ্যে সেখানে কাজ করছেন বা সদ্য গেছেন, তারাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি কমাতে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
শ্রম ও অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরি কিরন বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে অনেক কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। এমনকি কেউ কেউ দেশে ফিরতে বাধ্য হতে পারেন। যারা নতুন করে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাদের যাত্রাও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের অভিবাসন খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা অনেক প্রবাসী কর্মী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রবাসীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় বা নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা করতে পারে। পাশাপাশি কোনো কর্মী চাকরি হারালে অন্তত অস্থায়ীভাবে থাকা ও খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী য়ারিফুল হক চৌধুরি জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংকটে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রদূতদের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মী যদি চাকরি হারান বা জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রেও সরকার কাজ করছে। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের ভিসা ও ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: অনিশ্চয়তায় পড়তে পারেন লাখো বাংলাদেশি কর্মী
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০৮:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-০৩-২০২৬ ০২:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৫ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট