রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে হঠাৎ ভারী ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যগ্রহণ হৃদ্রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত তেল, লবণ ও চিনি-সমৃদ্ধ কিছু প্রচলিত ইফতার আইটেম হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ইফতারের খাবার বাছাইয়ে সতর্কতা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, ডিপ-ফ্রাই করা খাবার যেমন পেঁয়াজু, বেগুনি, সমুচা বা পুরিতে প্রচুর তেল ও ট্রান্স ফ্যাট থাকে, যা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) বৃদ্ধি করতে পারে। নিয়মিত এ ধরনের খাবার গ্রহণ হৃদ্রোগের জটিলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বিকল্প হিসেবে কম তেলে তৈরি বা ওভেনে বেক করা খাবার তুলনামূলক নিরাপদ। এছাড়া অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত পানীয়—যেমন শরবত, কোমল পানীয় বা বেশি চিনি দেওয়া ফলের জুস—রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা চিনি ছাড়া লেবু-পানি, স্বাভাবিক পানি বা পরিমিত ডাবের পানি গ্রহণের পরামর্শ দেন। লবণাক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারও হৃদ্রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। চাট, প্যাকেটজাত চিপস বা আচারজাতীয় খাবারে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং শরীরে পানি জমার প্রবণতা বাড়ায়। ফলে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। কম লবণযুক্ত ঘরে তৈরি খাবার এ ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত লাল মাংস, বিশেষ করে গরু বা খাসির চর্বিযুক্ত অংশ, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে।
চিকিৎসকরা এ ধরনের খাবার সীমিত রেখে মাছ, ডাল বা চামড়া ছাড়া মুরগির মতো তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর প্রোটিন উৎস বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্রোগীরা ইফতার শুরু করতে পারেন অল্প পরিমাণ খেজুর ও পানি দিয়ে এবং একবারে বেশি না খেয়ে ধীরে ধীরে পরিমিত খাবার গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি ওষুধ সেবনের সময়সূচি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সমন্বয় করা জরুরি। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
হার্টের রোগীদের ইফতারে যেসব ৪ খাবার এড়ানো জরুরি
- আপলোড সময় : ০৪-০৩-২০২৬ ১০:৩৬:৩১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ১২:১৩:০৬ পূর্বাহ্ন
ছবি সংগৃহিত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট