ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং কারাকাসের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পেন্টাগন এই অভিযানে জনপ্রিয় এআই কোম্পানি অ্যানথ্রোপিক-এর তৈরি শক্তিশালী মডেল ‘ক্লড’ (Claude) ব্যবহার করেছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সামরিক মিশনে তথ্য বিশ্লেষণ ও রণকৌশল নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন সরাসরি ব্যবহার বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ডেটা অ্যানালিটিক্স জায়ান্ট ‘প্যালানটিয়ার’ (Palantir)-এর মাধ্যমে পেন্টাগন অ্যানথ্রোপিক-এর এই এআই প্রযুক্তিটি সামরিক অভিযানে যুক্ত করেছিল। গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ কারাকাসে পরিচালিত এই দুঃসাহসিক অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়। মূলত বিশাল পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ‘ক্লড’ মডেলটিকে কাজে লাগানো হয়েছিল। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে অ্যানথ্রোপিকের নিজস্ব নীতিমালার কারণে। প্রতিষ্ঠানটির কঠোর নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে যে, তাদের এআই টুল কোনোভাবেই হিংসাত্মক কার্যকলাপ, সামরিক হামলা, অস্ত্র লক্ষ্য নির্ধারণ বা সরাসরি নজরদারির কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং অ্যানথ্রোপিকের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটির নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠায় পেন্টাগনের সঙ্গে তাদের প্রায় ২০০ মিলিয়ন (২০ কোটি) ডলারের একটি বিশাল চুক্তি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অ্যানথ্রোপিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তি সরকারি বা বেসরকারি—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহার নীতিমালা মেনে চলতে বাধ্য। যুদ্ধের ময়দানে বাণিজ্যিক এআই মডেলের এমন ব্যবহার ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক সীমা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট