মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।
জেনেভা বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করা। এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মাস্কাটে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা ওমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি মধ্যস্থতা করেন। সেই বৈঠককে 'ইতিবাচক শুরু' হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল তেহরান। তবে এবারের জেনেভা বৈঠকটি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ‘শূন্য’ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। বিপরীতে, ইরান তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক অধিকারের স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এবং ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ছায়া পুরো অঞ্চলকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ওমানি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মঙ্গলবার সকালে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পর বিকেলে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। এই জোড়া কূটনৈতিক মিশন বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট