নাগরিক ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নয়: তারেক রহমানের ভাষণ
- আপলোড সময় : ০৯-০২-২০২৬ ০৯:২৭:৫৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-০২-২০২৬ ০৯:২৭:৫৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫৪ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণকে দুর্বল রেখে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়; বরং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে প্রতিটি স্তরে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন জরুরি।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
ভাষণে তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভিত্তি হলো নাগরিকদের সরাসরি ভোটাধিকার। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে এ অধিকার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, ক্ষমতা যদি সীমিত গোষ্ঠী বা দলের মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকে, তবে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পাচার রোধ এবং বিদেশে চলে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা গেলে সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও বেকার ভাতা—বাস্তবায়নে অর্থের ঘাটতি থাকবে না। তিনি পাচার হওয়া সম্পদ জনকল্যাণে ব্যবহারের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন।
প্রশাসন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে সংবিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হবে। এমন একটি শাসনব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন যেখানে জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের শাসক নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে দেখবেন।
গত বছরগুলোতে সরকারি পদ-পদবি দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্বল হয়েছে। দলীয়করণ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
দেশ পরিচালনায় বিএনপির প্রস্তুত পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে শুরু থেকেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচির লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বেকারত্ব নিরসন ও মেধার মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দেশবাসীর সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।