আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা-২০২৫ যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়ে ইসি জানিয়েছে, এখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালাতে হলে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ইতোমধ্যে দেশের সকল রিটার্নিং অফিসারকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ যদি ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালাতে চান, তবে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নাম, আইডি এবং ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ সব তথ্য আগেভাগেই কমিশনকে জানাতে হবে। মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার বন্ধ এবং স্বচ্ছতা আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার যাবতীয় খরচ প্রার্থীর নির্ধারিত নির্বাচনি ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। আচরণ বিধিমালার ২২ (২) ধারা অনুযায়ী, অনলাইনে প্রচারের জন্য ব্যয় করা প্রতিটি টাকা রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিলকৃত ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রার্থীদের এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোনো তথ্য গোপন করা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গত কয়েক বছরে নির্বাচনি প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বহুগুণ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কুৎসা রটানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। ইসির এই নতুন কঠোর অবস্থানের ফলে নির্বাচনি মাঠের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।