আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পুলিশ বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ২০০৮ সালে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচসহ ২৮ ও ৪৩তম ব্যাচের এএসপি প্রবেশনারদের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সফলতার মধ্য দিয়ে নিয়োগ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটেছে, যা পুলিশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। বাহারুল আলম নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, "আপনাদের এই যোগদান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আপনাদের বৈধ অধিকার ও মর্যাদার পুনরুদ্ধার।" তিনি মনে করেন, প্রবেশনার কর্মকর্তাদের পূর্বতন কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নতুন উদ্দীপনা পুলিশের হারানো মনোবল চাঙ্গা করতে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সনাতনী পদ্ধতির বাইরে গিয়ে পুলিশিং করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমত গঠন এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের এই যুগে শারীরিক শক্তির চেয়ে বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাই হবে পুলিশের প্রধান শক্তি। বিশেষ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মকর্তাদের ডিজিটাল ও বাস্তব—উভয় ক্ষেত্রেই সততা ও নিরপেক্ষতার পরাকাষ্ঠা দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আইজিপি কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অত্যন্ত কঠোর শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও বিধি-বিধানের প্রতি অনুগত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের নির্দেশ দেন। এএসপি প্রবেশনারদের এই দলে ২৭তম ব্যাচের ৬০ জন, ২৮তম ব্যাচের ১ জন এবং ৪৩তম ব্যাচের ৬ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিয়োগ বঞ্চিত এই কর্মকর্তাদের পুনরায় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি পুলিশ প্রশাসনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।