পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), র্যাব ও ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উদ্ধারকৃত মরদেহের একটি নারী ও অন্যটি শিশুর বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই পরিত্যক্ত ভবনটি এখন যেন এক রহস্যপুরীতে পরিণত হয়েছে। এর আগে গত বছরের ২৯ আগস্ট এক যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ, ১২ অক্টোবর এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ এবং ১৯ ডিসেম্বর টয়লেট থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে একই স্থানে এখন পর্যন্ত পাঁচটি লাশের সন্ধান মিলল। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানা পুলিশের অতি সন্নিকটে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেও ভবনটি রক্ষায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাখাওয়াত ইমতিয়াজ জানান, মরদেহ দুটি মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ প্রোফাইলিং ও আনুষঙ্গিক তদন্ত চলছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এই ভবনটি ঢাকা জেলা পুলিশের ব্যারাক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় ভবনটি সংস্কার বা তদারকি না করায় এটি বর্তমানে অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট