ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
হাইকোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও উদ্ধার মহড়া বাংলাদেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি যুবসমাজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নভেম্বরের মধ্যে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে মক্কায় মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড মাদক, কিশোর গ্যাং ও র‍্যাগ ডে রোধে মাউশির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে চুয়েটে ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার, ক্যাম্পাসে না আসার শর্তে রেলখাতের উন্নয়নে ৮০টি নতুন ইঞ্জিন আমদানির উদ্যোগ: রেলমন্ত্রী কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৩৫৩ জন আটক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুপারিশ তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রস্তাব ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য বৈঠক শেষ আজ, আলোচনায় শুল্ক ও বাণিজ্য ঘাটতি রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ এশিয়ার বাজারগুলোতে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি অবসরভাতা পেতে শিক্ষকদের ভোগান্তি বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে খাদ্য নিরাপত্তায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক পাকিস্তান ও ভারতীয়দের তুলনায় বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: WHO

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ‘বড় ধাক্কা’ দরকার: আবু ইউসুফ

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমন্বিত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৬ ১১:২১:৪৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৬ ১১:২৫:০০ অপরাহ্ন
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ৩৩ বার পঠিত
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ‘বড় ধাক্কা’ দরকার: আবু ইউসুফ সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত সংস্কার, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। তাঁর মতে, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, করের আওতা বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দারিদ্র্য, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্বনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনোজ দে। মূল সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রশ্ন–উত্তর আকারে তুলে ধরা হলো।


প্রশ্ন: বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রধান দুর্বলতা কোথায়?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিভিন্ন সংকটের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, মহামারি ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতাও বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।


উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা পরিবারগুলোও নতুন অর্থনৈতিক সংকটে দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আয় ও মজুরি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।


প্রশ্ন: আগামী এক–দুই বছরে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কতটা?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকার ঘোষিত কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, যোগ্য নেতৃত্ব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গঠনের অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সবকিছু বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।


বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করা জরুরি। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে ব্যয় বাড়ে এবং সেই অতিরিক্ত চাপ শেষ পর্যন্ত সরকার ও জনগণের ওপর পড়ে।


প্রশ্ন: অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য বড় ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে—সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ।


ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের সংস্কারকে আলাদাভাবে বিবেচনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন, কারণ এক খাতের সঙ্গে অন্য খাতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং রাজস্ব আদায়ের মতো কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয় ও আন্তসংযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।


নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরিমাপ করতে হবে। এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসম্পাদন সূচক বা কেপিআইভিত্তিক একটি সমন্বিত পর্যবেক্ষণব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। এতে কোথায় অগ্রগতি হচ্ছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা শনাক্ত করা সহজ হবে।


প্রশ্ন: ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোন পদক্ষেপগুলো জরুরি?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ গঠন, কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আমানতকারী, ব্যবসায়ী ও করদাতাদের আস্থা পুনরুদ্ধারও জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের তদারকির দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।


ব্যাংক খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অনিবার্য পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করা ব্যক্তিদের একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়।


ঋণ আদায়সংক্রান্ত মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকাও ব্যাংকিং খাতের জন্য সমস্যা। এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে ব্যাংক পুনর্গঠন বা বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।


প্রশ্ন: সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করার পরও বাস্তবায়নে বাধা কোথায়?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী অঙ্গীকার ও বাজেটে সংস্কারের কথা থাকলেই যথেষ্ট নয়; সেগুলো বাস্তবে কার্যকর করতে হবে।


সংস্কারের ফলে বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বাধা আসতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যৌক্তিক আলোচনা করে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। নীতি ও পরিকল্পনায় যা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার যথাযথ প্রয়োগ এবং অগ্রগতির মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।


প্রশ্ন: দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কী করা উচিত?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা—এই তিন ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহারসংক্রান্ত নীতির পাশাপাশি সরকার শুল্ক কমানো বা ভর্তুকি দেওয়ার মাধ্যমে যে সুবিধা তৈরি করে, তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।


বাজারে ধারাবাহিক তদারকি না থাকলে সরকারি উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষ পায় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি।


চাল, তেল, আলু ও পেঁয়াজের মতো পণ্যের উৎপাদন, সম্ভাব্য ঘাটতি এবং আমদানির সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে বছরজুড়ে পরিকল্পিত নজরদারি চালানো যেতে পারে। স্বল্পমেয়াদি অভিযান নয়, বরং নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিমূলক বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।


প্রশ্ন: আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমাতে রাজস্ব খাতে কী পরিবর্তন প্রয়োজন?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নের জন্য নিয়মিত ও হালনাগাদ আয়-ব্যয়ের তথ্য প্রয়োজন। পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর করে বর্তমান বৈষম্যের সঠিক চিত্র বোঝা কঠিন। তাই খানা আয় ও ব্যয় জরিপ নিয়মিত করা জরুরি।


করব্যবস্থায় সংস্কারের মাধ্যমে করের আওতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে কর আদায়ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের কার্যকর সংযোগ বাড়ানো গেলে কর ফাঁকি কমানো এবং করদাতার সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানাসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে রাজস্ব বিভাগের তথ্যভান্ডারের সংযোগও সহায়ক হতে পারে।


একই সঙ্গে ভ্যাট ও আমদানি শুল্কের মতো পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। কর আদায়ের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করতে হবে এবং করছাড়ের সুযোগগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। তবে করদাতাদের আস্থা অর্জনও জরুরি। করের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং এর বিনিময়ে সরকারি সেবার মান উন্নত হচ্ছে—এ নিশ্চয়তা দিতে পারলে কর প্রদানে আগ্রহ বাড়তে পারে।


প্রশ্ন: সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি এবং এর অর্থায়ন কীভাবে সামাল দেওয়া উচিত?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে বেতন সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ ব্যয় মেটাতে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর না করে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।


করব্যবস্থার সংস্কার, প্রত্যক্ষ করের আওতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা দূর করা গেলে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে দীর্ঘ বিরতির পর বড় আকারে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত বেতন সমন্বয়ের ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে সরকারি ব্যয়ের ওপর আকস্মিক চাপ কমানো সম্ভব হবে।


প্রশ্ন: বড় অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা দরকার?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: অর্থনীতির আকার বাড়াতে অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। তবে বড় প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিশ্লেষণ এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি।


প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার জন্য দক্ষ প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদার নির্বাচন করতে হবে। প্রকল্প বিলম্বিত হলে ব্যয় ও সুদের চাপ বাড়ে। অতিরিক্ত ঋণের বোঝা ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে।


বিদেশি ঋণ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। তাই রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, দক্ষ জনশক্তির বিদেশে কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে।


প্রশ্ন: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে টেকসই করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?


ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের বক্তব্যের সারাংশ: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, রাজস্ব সংস্কার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। নীতি ঘোষণা ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান কমানোও জরুরি।


প্রকল্পের দক্ষ বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থাপনা, কর আদায়ের কার্যকর পদ্ধতি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করা সম্ভব। এসব উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার সুযোগ তৈরি হবে।


সূত্র: প্রথম আলো, বিশেষ সাক্ষাৎকার: মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনোজ দে। প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬।


মূল সাক্ষাৎকার পড়ুন: https://www.prothomalo.com/opinion/interview/yl04rbuond


সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: এই প্রতিবেদনটি মূল সাক্ষাৎকারের বক্তব্যের বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত পুনর্লিখন। প্রশ্ন–উত্তরগুলো হুবহু প্রতিলিপি নয় এবং এটি নিজস্বভাবে নেওয়া সাক্ষাৎকার নয়।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৪

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।