প্রাচীন আরবি কবিতার সংকলনে শেখ জায়েদ বুক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন জার্মান গবেষক
স্টেফান ভাইডনারের জার্মান ভাষায় অনূদিত প্রাচীন আরবি কবিতার সংকলন স্বীকৃতি পেয়েছে; উঠে এসেছে দেড় হাজার বছর আগের আরব সমাজ, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির চিত্র।
- আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৩:৪৫:০৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৩:৪৭:৫০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
প্রাক্-ইসলামি যুগের আরবি কবিতার সংকলন ও জার্মান ভাষায় অনুবাদের জন্য শেখ জায়েদ বুক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন জার্মান আরববিদ ও অনুবাদক স্টেফান ভাইডনার। তাঁর ‘Der Arabische Diwan: Die Schönsten Gedichte aus Vorislamischer Zeit’ গ্রন্থে ইসলামপূর্ব আরবের নির্বাচিত কবিতা তুলে ধরা হয়েছে। সংকলনটিতে প্রেম, যুদ্ধ ও বীরত্বের পাশাপাশি প্রকৃতি, প্রাণিজগৎ এবং তৎকালীন আরব সমাজের জীবনযাত্রার নানা দিক উঠে এসেছে।
প্রায় দেড় হাজার বছর আগের আরব কবিতায় শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি কিংবা গোত্রীয় সংঘাতের বর্ণনা ছিল না। মৌমাছি, মধু সংগ্রহ, পাখির উড়াল, ঘোড়ার গতি এবং মরুভূমির বিভিন্ন প্রাণীর আচরণও এসব রচনার বিষয়বস্তু ছিল। ফলে কবিতাগুলো থেকে প্রাক্-ইসলামি আরবের পরিবেশ, সামাজিক জীবন ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
ভাইডনারের মতে, মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য তৎকালীন মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান প্রয়োজন ছিল। প্রাণী, উদ্ভিদ, আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ছিল তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। আধুনিক বিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক কাঠামো না থাকলেও তাঁদের অভিজ্ঞতানির্ভর পর্যবেক্ষণে প্রকৃতিকে বোঝার একটি বাস্তবধর্মী পদ্ধতি দেখা যায়।
গ্রন্থটিতে প্রায় এক হাজার পঙ্ক্তির প্রাচীন আরবি কবিতা আধুনিক জার্মান ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। ভাইডনার মনে করেন, সে সময় আরব সমাজে কবিতা যোগাযোগ ও জনমত গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। কবিতার সাহায্যে কবিরা নিজেদের বীরত্ব প্রচার করতেন, প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতেন এবং গোত্রের মর্যাদা তুলে ধরতেন। এ ক্ষেত্রে কবিতার সামাজিক ভূমিকার সঙ্গে বর্তমান সময়ের সংবাদমাধ্যম, প্রচারণা, কূটনীতি ও বিজ্ঞাপনের কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
সংকলনে ‘সা'লিক’ নামে পরিচিত সমাজের প্রান্তিক বা গোত্রীয় সুরক্ষার বাইরে থাকা কবিদের রচনাও স্থান পেয়েছে। এসব কবিতায় স্বাধীনচেতা জীবন, সংঘাত ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি ইমরু আল-কায়েসের মতো প্রাচীন আরবি কবির রচনায় প্রেম, অভিযান ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রকাশ দেখা যায়।
ভাইডনারের সংকলন প্রাক্-ইসলামি আরব সমাজ সম্পর্কে প্রচলিত কিছু সরলীকৃত ধারণা পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি করে। কবিতাগুলোতে প্রকৃতি ও সমাজ সম্পর্কে মানুষের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য সম্পর্কে পরিচিতির ইঙ্গিতও রয়েছে। একই সঙ্গে গোত্রীয় যুদ্ধ, হত্যা, প্রতিশোধ ও সহিংসতার বিবরণ তৎকালীন সমাজের সংঘাতপূর্ণ বাস্তবতাও তুলে ধরে।
ভাইডনারের আগ্রহের সূত্রপাত হয় মুঘল সাম্রাজ্য নিয়ে গবেষণার সময়। ইউরোপে আরবি সাহিত্য কীভাবে পরিচিতি পেয়েছিল, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি পুরোনো জার্মান অনুবাদের সন্ধান পান। তবে উনিশ শতকের ভাষাশৈলী আধুনিক পাঠকের জন্য দুরূহ মনে হওয়ায় তিনি প্রাচীন কবিতাগুলো নতুন করে অনুবাদের উদ্যোগ নেন।
শেখ জায়েদ বুক অ্যাওয়ার্ডের স্বীকৃতিকে ভাইডনার শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেন না; তাঁর কাছে এটি আরব ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির মধ্যে সাহিত্যিক যোগাযোগেরও স্বীকৃতি। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে প্রাচীন আরবি কবিতা নতুন ভাষার পাঠকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে এসব কবিতা আরব বিশ্বের সাংস্কৃতিক স্মৃতি, পরিচয় ও ঐতিহ্য বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।