বাকুতে বৈঠকে মুখোমুখি বৈরী পক্ষের নেতারা
ইরান-ইসরায়েলসহ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের প্রতিনিধিদের সম্মেলনে কূটনৈতিক উত্তেজনা, গৃহীত বাকু ঘোষণাপত্র
- আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১০:১৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১০:১৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২১ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে একই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বৈরী সম্পর্কের একাধিক দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা জোরদারবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে তারা অংশ নেন। এতে ইরান, ইসরায়েল, তুরস্ক, রাশিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিস্তিনসহ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খবর ইউরোনিউজের।
সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিন। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের দেশগুলোর প্রতিনিধিদের একই কূটনৈতিক মঞ্চে আনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
তবে সম্মেলনে কূটনৈতিক উত্তেজনাও দেখা যায়। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বক্তব্য দিতে শুরু করলে তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনকক্ষ ত্যাগ করেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণের সমালোচনা করে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে শান্তি ও পারস্পরিক আস্থার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন।
সম্মেলনের আলোচনায় আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের পাশাপাশি বাণিজ্য, পরিবহন যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পরিবহন যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন সশস্ত্র সংঘাতে রূপ না নেয়, সে জন্য পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো বাকু ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। এতে সামরিক-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা, আন্তদেশীয় সংলাপ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া লাওসকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সিআইসিএর সভাপতিত্বে আজারবাইজানের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এশিয়ায় শান্তি, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সিআইসিএর এ সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। সম্মেলনে বৈরী সম্পর্কের দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আলোচনার সুযোগ তৈরি করলেও এসব বিরোধের বাস্তব সমাধান কতটা এগোবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।