ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—ইসলামের দৃষ্টিতে কতটা গ্রহণযোগ্য?
ধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয় ইসলাম, তবে ইবাদত ও ধর্মীয় উৎসব পালনের রয়েছে স্বতন্ত্র বিধান
- আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০৯:৫২:৫৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০৯:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬ বার পঠিত
এআই জেনারেটেড
‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—স্লোগানটি সামাজিকভাবে বহুল প্রচলিত হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এর ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একজন মুসলমানের করণীয় কী, তা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে জানা প্রয়োজন। ইসলামে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়বিচারের নির্দেশনা রয়েছে; তবে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়টি আলাদা।
ইসলামে মুসলমানদের ঈমান ও ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম এবং আমার জন্য আমার ধর্ম।’ (সুরা আল-কাফিরুন, আয়াত ৬)। এ আয়াতের মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার স্বাতন্ত্র্য স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে অন্য ধর্মের উপাসনা বা ধর্মীয় আচারকে নিজের ধর্মীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে তোমরা একে অপরকে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত ২)। এ নির্দেশনার আলোকে কোনো ধর্মীয় আচার যদি ইসলামের বিশ্বাসবিরোধী হয়, তাহলে তাতে ধর্মীয় অংশগ্রহণ করা বা সেটিকে সমর্থন করার বিষয়টি একজন মুসলমানের জন্য গুরুতর বিবেচনার বিষয়।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ইবাদত ও ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা আবশ্যক। অন্য ধর্মের উপাসনা, পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা কিংবা ধর্মীয় আচার পালনে অংশ নেওয়া মুসলমানের জন্য বৈধ নয়—এ বিষয়ে বহু আলেমের সুস্পষ্ট মত রয়েছে। কেউ যদি অন্য ধর্মের উপাসনাকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে তা ঈমানের জন্য অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তবে কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট কাজের ভিত্তিতে তাঁর ঈমান সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩১)। আলেমরা এ হাদিসের আলোকে অন্য ধর্মের স্বতন্ত্র ধর্মীয় প্রতীক ও আচার অনুকরণ করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া কিংবা সাধারণ পোশাক-আশাক ও সংস্কৃতির মিলকে এ হাদিসের আওতায় একভাবে ফেলা ঠিক নয়; কাজটির প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য বিবেচনা করতে হয়।
এ কারণে দুর্গাপূজার মতো অন্য ধর্মের উপাসনাকেন্দ্রিক উৎসবে গিয়ে পূজা করা, প্রণাম করা, ধর্মীয় মন্ত্র বা উপাসনামূলক আচার পালন করা মুসলমানের জন্য জায়েজ নয়। একইভাবে কোনো ধর্মীয় আচারকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা বা তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও ইসলামের আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের কাজে জড়িত হওয়া থেকে মুসলমানদের বিরত থাকা উচিত।
তবে কোনো অমুসলিম প্রতিবেশী, সহকর্মী বা পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক সম্পর্ক বজায় রাখা, অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া, বিপদে সহযোগিতা করা এবং ন্যায়সংগত আচরণ করা নিষিদ্ধ নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদাচরণ করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না।’ (সুরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত ৮)।
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা এবং তাদের ধর্মীয় উপাসনায় অংশগ্রহণ করা এক বিষয় নয়। সামাজিক সৌজন্য বজায় রাখতে গিয়ে নিজের ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘন করা যাবে না। একইভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কারণ, সেখানে সম্পাদিত কাজ এবং অংশগ্রহণের ধরনও বিবেচনা করা জরুরি।
সুতরাং ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ কথাটিকে যদি সব ধর্মের উপাসনা ও ধর্মীয় আচার সবার জন্য উন্মুক্ত—এমন অর্থে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা ইসলামের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন মুসলমানের দায়িত্ব হলো নিজের ঈমান ও ধর্মীয় বিধান রক্ষা করা, অন্য ধর্মের উপাসনামূলক আচার থেকে বিরত থাকা এবং একই সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখানো। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার অর্থ নিজের ধর্মীয় সীমারেখা অতিক্রম করা নয়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।