এমআই৫-এর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সিজিটিআরআইয়ের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের (এমএসএস) ‘খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের শতাধিক শিক্ষাবিদ এমএসএসের অর্থায়নে বিভিন্ন গবেষণায় যুক্ত হয়েছেন। অনেক গবেষকই এ প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে না জেনেই সৎ উদ্দেশ্যে এসব প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব গবেষণার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, গোপন যোগাযোগব্যবস্থা ও বার্তার ভেতর তথ্য লুকিয়ে রাখার প্রযুক্তি (স্টেগানোগ্রাফি) রয়েছে। এমআই৫-এর দাবি, এসব গবেষণা চীনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেন, চীনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্রিটিশ শিক্ষাবিদদের গবেষণা ও দক্ষতা গোপনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সিজিটিআরআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করে তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এমআই৫ আরও সতর্ক করেছে, ২০২৩ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কী করছেন তা যুক্তিসংগতভাবে জানার কথা থাকলেও তিনি সহযোগিতা চালিয়ে যান।
যুক্তরাজ্যের ১৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিভার্সিটিজ ইউকে জানিয়েছে, তারা সতর্কবার্তাটি পর্যালোচনা করছে। সংগঠনটির মতে, গবেষণার নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখে।
অন্যদিকে লন্ডনে চীনা দূতাবাস এমআই৫-এর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘কাল্পনিক ও সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষাগত ও গবেষণা সহযোগিতা আইন মেনেই স্বেচ্ছায় হয়ে আসছে।