পাকিস্তান কি ইরানের বিপক্ষে যুদ্ধে নামছে?
সৌদি আরবে হামলা হলে প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদের; তবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি পাকিস্তান
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১০-০৯-২০২৬ ১১:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-০৯-২০২৬ ১১:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের রিয়াদবিরোধী আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তেহরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইসলামাবাদ। সৌদি আরবে ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে নিজের মিত্র হুতিদের অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে লক্ষ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের সমন্বয়ে এই ত্রিপক্ষীয় বার্তা প্রদান করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
সম্প্রতি সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের শহরের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালায় হুতি। এতে অন্তত ৭৩ জন আহত হন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি ভূখণ্ডে চালানো বড় ধরনের আক্রমণগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এই হামলার পরপরই সৌদি বিমান বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত ৫৪টি বিমান হামলা পরিচালনা করে। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই হামলার জবাব না দিয়ে বা শাস্তি না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক জটলা পেকেছে। পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে মূলত এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব অপরিসীম। পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিন দেশের চুক্তির মূল ভিত্তি হলো যেকোনো এক দেশের ওপর অন্যায় আক্রমণ বা তার ভূখণ্ডে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা তিন দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। পাকিস্তান তার সশস্ত্র বাহিনীকে সৌদি আরবের ভূখণ্ড প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত রাখলেও সরাসরি ইয়েমেনি মাটিতে যুদ্ধে জড়াবে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাদের মূল কৌশল হলো কোনো সেনা ইয়েমেনি সীমানায় না পাঠিয়ে কেবল সৌদি ভূমিতে অবস্থান করেই যৌথ সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
যদিও ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে দাবি করা হয়েছে যে হুতিদের ওপর তাদের কোনো সার্বিক নিয়ন্ত্রণ নেই, তবুও গোয়েন্দা সূত্র ও বেশ কিছু অনানুষ্ঠানিক তথ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহের দিকে তেহরানের উচ্চপর্যায় থেকে হুতিদের সৌদি আরবে হামলা জোরদার করতে বলা হয় এবং সে উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত অর্থ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কয়েকজন অধিনায়কও হামলা সমন্বয় করতে ইয়েমেন সফর করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া পোর্ট ব্লকেডের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপের বিপরীত প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে গিয়ে তেহরান উল্টো সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে আরও কাছাকাছি এনে দাঁড় করাচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।