সামান্য জ্বর, মাথাব্যথা, সর্দি-কাশি কিংবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ সেবন করেন। পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা পুরোনো প্রেসক্রিপশনের ওপর নির্ভর করে ওষুধ খাওয়ার এই প্রবণতাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সেলফ-মেডিকেশন’ বা স্বেচ্ছা ওষুধ সেবন বলা হয়। এই অভ্যাস অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণের ফলে রোগের প্রকৃত কারণ আড়ালে থেকে যেতে পারে। অনেক সময় একটি রোগের লক্ষণ অন্য কোনো জটিল রোগের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। ফলে ভুল ওষুধ গ্রহণের কারণে রোগ শনাক্তে বিলম্ব হওয়া এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি
প্রতিটি ওষুধেরই কিছু সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। রোগীর বয়স, ওজন, শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনা না করে ওষুধ গ্রহণ করলে অ্যালার্জি, বমি, মাথা ঘোরা, কিডনি বা লিভারের ক্ষতিসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। 1
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার
অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রীতিমতো উদ্বেগের একটি বিষয়। অনেক সময় ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো সাধারণ সমস্যায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন না হলেও অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ সেবন করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত ব্যবহার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ।
রোগের লক্ষণ সাময়িকভাবে চাপা পড়ে
অনেক সময় ব্যথানাশক বা অন্যান্য ওষুধ সাময়িকভাবে উপসর্গ কমিয়ে দেয়। এতে রোগী সুস্থ হয়ে গেছেন বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু প্রকৃত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা বিলম্বিত হলে পরবর্তীতে রোগ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
ভুল মাত্রায় ওষুধ গ্রহণের ঝুঁকি
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ করলে অনেকেই সঠিক মাত্রা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুসরণ করেন না। ফলে কখনো প্রয়োজনের চেয়ে কম, আবার কখনো অতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণ করা হয়। এতে চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
উদ্বেগের বিষয়
অযৌক্তিকভাবে ওষুধ সেবনের প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এর ফলে রোগী সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে কখনো কখনো আরও বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সচেতনতার বিকল্প নেই
কোনো ধরনের ওষুধ সেবনের আগে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পুরোনো প্রেসক্রিপশন, পরিচিত কারও পরামর্শ বা ইন্টারনেটের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ গ্রহণ না করে প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করাই নিরাপদ।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দায়িত্বশীলভাবে ওষুধ ব্যবহার করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন সাময়িকভাবে উপকার এনে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।
ডেস্ক রিপোর্ট