ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালিয়ে ধর্মীয় স্থানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ হাজারের বেশি মাইক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অপসারণ করা মাইকের মধ্যে চার হাজারের বেশি মসজিদ এবং প্রায় ১ হাজার ১০০টি মন্দিরের। এ নিয়ে মুসলিম সংগঠন ও মসজিদ কমিটিগুলোর পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও প্রশ্ন তুলেছে।
মসজিদ কমিটি ও কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের অভিযোগ, অনেক এলাকায় শব্দের মাত্রা পরিমাপ বা যথাযথ যাচাই না করেই মাইক খুলে নিতে বলা হয়েছে। তাদের দাবি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগে আপত্তি নেই; তবে মসজিদ, মন্দির, রাজনৈতিক সভা ও সামাজিক অনুষ্ঠান—সব ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সমাজে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের এই অভিযানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পেছনে সরকারের আগের কয়েকটি সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেয় শুভেন্দু সরকার। কোরবানির ঈদের আগে বিষয়টি নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। একই সময়ে কয়েকটি মসজিদ থেকে মাইক সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। সরকারি হিসাবে, মন্দিরের তুলনায় মসজিদ থেকে অপসারণ করা মাইকের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেশি। এ পরিসংখ্যান সামনে রেখে সরকারের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ও প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, কোনো একটি পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তার মনে হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত খোলা জায়গায় মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের আপত্তি না থাকলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে এর প্রয়োগের স্বচ্ছতা, লিখিত নির্দেশনা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমান মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে।