বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতির দিকে এগোলেও তাৎক্ষণিকভাবে এই পথ খুলে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে তেহরান। চলমান উত্তেজনা ও শর্তসাপেক্ষ অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়েছে।
শনিবার উভয় দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়।
ওমান সম্প্রতি মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি একাধিক শর্তের ওপর নির্ভর করছে এবং চুক্তি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন নাও হতে পারে।
তেহরানের অভিযোগ, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতা চুক্তি পরবর্তীতে হামলার মাধ্যমে লঙ্ঘন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাকের জুলকাদর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় শুরু হবে না।
ইরান জানিয়েছে, আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তবে কবে নাগাদ সিদ্ধান্ত আসবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে তেহরানকে সতর্ক করেছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যা আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, আলোচনায় অগ্রগতি থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।