সোমবার ২৭ জুলাই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ভালো আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতির ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। তার ভাষায়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে। যদি তা না হয়, তাহলে কয়েক দিন আগে যে অবস্থায় ছিল পরিস্থিতি, সেখানেই ফিরে যেতে হবে। তবে বর্তমানে আলোচনা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশেই এগোচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার অনুরোধ করেছে এমন দাবি ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান কূটনৈতিক পথ থেকে সরে আসেনি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরুতে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসির বিরুদ্ধে। এরপর ইরানের সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম।
এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে শুরু করে আইআরজিসি। টানা ১৩ রাত ধরে চলা হামলা ও পাল্টা হামলার পর ২৫ জুলাই সেন্টকম সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এরপর থেকে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধ রেখেছে।
এর আগে রয়টার্সকে ইরানের সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান হামলার বদলে হামলা নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও সামরিক প্রতিক্রিয়া স্থগিত রাখবে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনকে আগেই বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রয়টার্সে ওই তথ্য প্রকাশের এক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার কারণ তুলে ধরেন। তবে এর আগে ২৬ জুন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
ডেস্ক রিপোর্ট