নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিয়ে শেষে কনেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার ১৭ জুলাই রাত প্রায় ৩টার দিকে নীলফামারী রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কিশোরগঞ্জ থেকে টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের সাত মাস বয়সী ছেলে জীবন ইসলাম এবং একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে রিয়াদ ইসলাম (২০)। রিয়াদ একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীরা নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জীবন ইসলাম ও রিয়াদ ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ১২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, রাতে মোট ১৪ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং বাকি ১২ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল গফুর বলেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহত দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা চলছে।
ডেস্ক রিপোর্ট