আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
মোট ১৩৩টি বইয়ের পরিমার্জনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতিহাস, বাংলা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে নতুন বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি কিছু অধ্যায় পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। একই সঙ্গে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি বই যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মোট ১৩৭টি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে ১৩৩টির পরিমার্জন ও ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি চারটি নতুন বইয়ের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আগামী আগস্ট থেকে বই ছাপার কাজ শুরু হয়ে নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রায় ৩০ কোটি ৮৩ লাখ পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখের বেশি এবং মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য ২১ কোটি ২৭ লাখের বেশি বই ছাপানো হবে। ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে সারা দেশে বই বিতরণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ রচনার আলোকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নতুন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অধ্যায়ে বর্তমান চার নেতার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন ও অবদান সংযোজন করা হচ্ছে।
ইতিহাস ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর, জেড ফোর্স, কে ফোর্স, তেলিয়াপাড়া বৈঠক, মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কৌশল এবং বিভিন্ন বীর সেনানায়কের অবদান আরও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।
একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সম্পর্কেও নতুন তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে।
তবে ২০২৬ সালের বাংলা বই থেকে বাদ পড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইতিহাস ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে আগের মতোই রাখা হয়েছে।
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, তথ্য বিশ্লেষণ, আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ বিষয়ে নতুন অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মিলিয়ে গড়ে তুলতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি বই চালু করা হবে।
চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। খেলাধুলা বইয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, কারাতে, অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মৌলিক ধারণা এবং ব্যবহারিক শিক্ষা থাকবে।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই চালু করা হবে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ে একটি উদ্বুদ্ধকরণ বইও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজে প্রায় ৪০০ বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, সম্পাদক এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকের সমন্বয়ে কাজ করা হয়েছে। প্রতিটি বই একাধিক ধাপে যাচাই ও সম্পাদনার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে বানান, তথ্য ও উপস্থাপনায় ভুলের পরিমাণ কমানো যায়।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে। সেখানে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা, গবেষণাভিত্তিক শিখন, সমস্যা সমাধান, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ অন্তত ১৬টি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
সর্বশেষ সংবাদ