ঢাকা , শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ড্রোন হামলা ঠেকাতে তেল ডিপোতে লোহার খাঁচা বসাচ্ছে আমিরাত গাজাগামী ফ্লোটিলার কর্মীদের আটকে ধর্ষণের অভিযোগ ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝিনাইদহে জুমার নামাজের পর এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, আহত তিনজন কোরবানির ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকট: চাহিদার অর্ধেক নতুন নোটও দিতে পারছে না টাঁকশাল, বাজারে ছেঁড়া-ফাটা টাকার ছড়াছড়ি ট্রাম্পের পরপরই বেইজিংয়ে পুতিন, বৈঠকের মূল এজেন্ডা কী? ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নীতির বিপক্ষে ভোট দিলেন ৪ রিপাবলিকান সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ১ বছরে ৫টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় প্রতীক ছাড়াই হবে সিটির ভোট: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা ফায়ার, সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় জওয়ানরা জমিজমা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি ডলার ক্রয় করল বাংলাদেশ ব্যাংক শিক্ষার্থীকে গুলি করায় মেডিকেল কলেজের প্রভাষকের ২১ বছরের কারাদণ্ড ডুয়েটে নবাগত ভিসি নিয়োগ নিয়ে রণক্ষেত্র: পুলিশ-শিক্ষার্থী-উপাচার্য সমর্থকদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ১৭ ক্যাপচা টেস্টিংয়ের দিন শেষ! এবার ‘বট’ রুখতে কিউআর কোড স্ক্যান প্রযুক্তির মাস্টারপ্ল্যান গুগলের ১ জুলাই থেকে তিন ধাপে কার্যকর হচ্ছে নবম পে-স্কেল ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও হামের টিকার ‘বেসরকারিকরণ’ তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ভারতীয় আকাশে একের পর এক বিমানে বোমাতঙ্ক: আমস্টারডাম ও মালয়েশিয়ার ফ্লাইটে ভুয়া হুমকি, বিমানবন্দরগুলোতে ‘হাই-অ্যালার্ট’ জনগণের দাবি হলে কুমিল্লা বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, একাধিক খালের পুনঃখনন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জুলাই-আগস্টের মধ্যেই কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাবে পিস্তল ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে ৩১ ডিসেম্বর; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই

কুরবানী কি সুন্নাহ নাকি ওয়াজিব?

  • আপলোড সময় : ২৩-০৫-২০২৬ ০২:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৫-২০২৬ ০২:৪৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
কুরবানী কি সুন্নাহ নাকি ওয়াজিব? প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)

কুরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।কোরআন ও হাদিসে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এমনিভাবে কুরবানী ইসলামের শিআরসমূহের অন্যতম। শিআর বলা হয় ইসলামের মৌলিক নিদর্শনগুলোকে। যেমন,মসজিদ, নামায, রোযা, রমযান, হজ্ব পালন, যাকাত প্রদান, ঈদ, কুরবানী করা- এজাতীয় মৌলিক নিদর্শন ও আলামত গুলোর মধ্য দিয়ে ইসলামের রূপ ও অবয়বটি প্রকাশ পায়। এই শিআরগুলোর অন্যতম হল, আল উযহিয়্যা তথা কুরবানী।

কুরআন,সুন্নাহ এবং ইজমায়ে উম্মতের আলোকে কুরবানীর বৈধতা প্রমাণিত। হাদিস শরীফে এসেছে যে, “নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরতের পর যখন থেকে কুরবানী করা শুরু করেন, তারপর থেকে আর কখনো বাদ দেননি। অর্থাৎ কোনো ঈদুল আযহার সময় কুরবানী না করে থাকেননি।” জামে তিরমিযী ১/১৮২

ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘সকল মুসলামনগণ কুরবানীর বৈধতার ব্যাপারে একমত। ইবনে হাজার আসকালানী রহ.বলেন, কুরবানী ইসলামের শিআর হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।’ قال ابن قُدامة في المغني(13/360) (أجمع المسلمون على مشروعية الأضحية) . وقال ابن حجر في الفتح (10/3) (ولا خلاف في كونها من شرائع الدين)

◉ “কুরবানী কি সুন্নাহ নাকি ওয়াজিব?”এ বিষয়ে মুজতাহিদ ফকিহদের মাঝে দুইটি মত রয়েছে।

প্রথম মত: সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর কুরবানি ওয়াজিব। ইমাম আওযায়ি, ইমাম লাইস, ইমাম আবু হানিফা রহ. প্রমুখের মত এটা। আর এর উপরই হানাফী মাযহাবের ফতোয়া। আর ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদের একটি মতেও কুরবানি ওয়াজিব। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর মতেও কুরবানী করা ওয়াজিব।

দ্বিতীয় মত: কুরবানি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা অত্যন্ত তাকিদপূর্ণ সুন্নাহ। এটা ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ, ইবনে কুদামা, ইবনে হাযম রহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখসহ একদল ফকীহদের মত। আর এক বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম মালিকের মতেও সুন্নতে মুয়ায়াক্কাদাহ।

কিন্তু এ মতের প্রবক্তারা আবার বলেছেন, “সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি পরিত্যাগ করা মাকরুহ। যদি কোন জনপদের লোকেরা সামর্থ্য হওয়া সত্ত্বেও সম্মিলিতভাবে কুরবানি পরিত্যাগ করে তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে। কেননা, কুরবানি হলো ইসলামের একটি শিয়ার বা বৃহৎ নিদর্শন।” (আহকামুল উদহিয়্যাহ, পৃ.214 ) لكن صرح كثير من أرباب هذا القول بأن تركها يكره للقادر، ذكره أصحابنا، نص الإمام أحمد وقطع به في الإقناع، وذكر في ((جواهر الإكليل شرح مختصر خليل)) . أنها إذا تركها أهل بلد قوتلوا عليها؛ لأنها من شعائر الإسلام. كتاب أحكام الأضحية والزكاة [ابن عثيمين] المكتبة الشاملة الحديثة 214-215

কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহ একমত যে, কুরবানির দিনগুলোতে যথাসম্ভব কুরবানি করা জরুরি এবং এর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না দেওয়া অন্যায়। কেননা নবী করিম সা.এর ভাষ্যমতে কুরবানির দিনগুলোতে কুরবানির রক্ত প্রবাহের চেয়ে আল্লাহ তা‘আলার কাছে অধিক প্রিয় কোন আমল নেই।

জাওয়াহিরুল ইকলিল শরহু মুখতাসারে খালিল গ্রন্থে “ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে যে,যদি কোনো শহরের সমস্ত লোক কুরবানী ছেড়ে দেয় তবে তাদের সাথে যুদ্ধ করা হবে। কেননা কুরবানী ইসলামের শিআর।” (রাসায়িলে ফিকহিয়্যা লিশ শায়খে ইবনে উসাইমিন রহিমাহুল্লাহ ৪৬, আহকামুল উদহিয়্যাহ, ইবনে উসাইমিন পৃ.214 )

মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ হাফি. বলেন, “এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার যে, ওয়াজিব এবং সুন্নতের স্তর নির্ধারণ নিয়েও বিভিন্ন মাযহাবে ভিন্নতা আছে। কোনো কোনো মাযহাবে ফরযের পর ওয়াজিবের স্তরই নেই, পরের স্তরটি হচ্ছে সুন্নত। কোনো কোনো মাযহাবে (হানাফী মাযহাব) ফরযের পর ওয়াজিবের স্তর তারপর সুন্নতের স্তর। কিন্তু যেসব মাযহাবে ওয়াজিবের স্তরটি নেই তারাও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতগুলোর ক্ষেত্রে আমল করেন ওয়াজিবের মতই। এর একটি উদাহরণ হল, বিতিরের নামায। এই বিতিরের নামায হানাফী মাযহাবে ওয়াজিব। কিন্তু যেসব মাযহাবে সুন্নত, তাদের ক্ষেত্রেও এটা সাধারণ সুন্নত নয়, বিতির ছুটে গেলে তাদের ফিকহ অনুযায়ীও কাযা করতে হয়। অথচ সাধারণ সুন্নত ছুটে গেলে কাযা করতে হয় না। তার অর্থ হল, বিতিরের নামায তাদের কাছে সুন্নত হলেও সাধারণ সুন্নত নয়। গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। আর সফর অবস্থায় সুন্নত না পড়লেও চলে, কিন্তু বিতিরের নামাযকে যারা সুন্নত বলেন, তারাও বলেন, সফর অবস্থায় বিতিরের নামায ছাড়া যাবে না। দেখুন, শিরোনাম বা পরিভাষা দুটি হলেও আমলের ক্ষেত্রে কাছাকাছি। যারা ওয়াজিব বলছেন এবং যারা সুন্নত বলছেন- আমলের ক্ষেত্রে উভয়েই প্রায় একই রকম গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কুরবানী করার বিষয়টিকে কোনো কোনো ফিকহে সুন্নতে মুআক্কাদা বলা হয়েছে। কোনো কোনো ফিকহে (ফিকহে হানাফী) ওয়াজিব বলা হয়েছে। কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে যারা সুন্নত বলেছেন, তারাও গুরুত্বের ক্ষেত্রে অনেক জোর আরোপ করেছেন। কুরবানীর গুরুত্ব এবং মাসাইলের প্রতিটি ধাপ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনাও করেছেন। আর যদি দলীল দেখেন তাহলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে আপনার কাছে।”

কুরআন-সুন্নাহে কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার দলিলসমূহ। এখানে আমরা সংক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি দলিল উল্লেখ করবো।

• আল্লাহ তায়ালা বলেন- إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ‎. فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ‎ অনুবাদ,“নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন। ” (সূরা কাউসার:১-২)

মুফাসসিরীনে কেরাম বলেছেন, এই আয়াতের মর্ম হচ্ছে, ‘ঈদের নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন।’ আমাদের নবী, ইনসানিয়াতের রাহবার হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে কুরবানী করেছেন, মানুষকে কুরবানী করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

• হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে- مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ، وَلَمْ يُضَحِّ، فَلَا يَقْربَنّ مُصَلّانَا “সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।” সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১২৩; সুনানে দারাকুতনী, হাদীস ৪৭৪৩ [হাদীসটি ‘মারফ‚’ ও ‘মাউক‚ফ’ উভয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে। প্রখ্যাত হাদীসবিষারদ যফর আহমাদ উসমানী রাহ.-সহ বহু মুহাদ্দিস উভয় বর্ণনাকেই ‘সহীহ’ বলেছেন। আর হাদীসের শব্দ ও মর্ম দেখেও তা ‘মারফ‚’ বলেই মত প্রকাশ করেছেন। (দ্র. ইলাউস সুনান, খ. ১৭, পৃ. ২১২-২২৫)]

• হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত- اخبرني ابو الزبير انه سمع جابر بن عبد الله يقول صلى لنا النبي صلى الله عليه وسلم يوم النحر بالمدينه فتقدم رجال فنحروا وظنوا ان النبي قد نحر فامر النبي صلى الله عليه وسلم “من كان نحر قبله ان يعيد بنحر آخر، ولا ينحروا حتى ينحر النبي صلى الله عليه وسلم (رواه مسلم رقم الحديث ١٩٦٤ ) “হযরত জাবের রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাতে ঈদের নামায পড়িয়েছেন। কিছু লোক নামাযের পূর্বেই কুরবানি করে ফেলেছেন এ ধারণায় যে, হয়তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালামও কুরবানি করে ফেলেছেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলেন যারা নামাযের পূর্বে কুরবানি করেছে তারা অবশ্যই পূনরায় কুরবানি করতে হবে। তোমরা কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পূর্বে কুরবানি করবে না।”(সহীহ মুসলিস-১৯৬৪)

কুরবানী যদি ওয়াজিব না হয়ে সুন্নত-ই হতো, তাহলে তো পূনরায় কুরবানির নির্দেশ দিতেন না।

• হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন- أَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِالمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُضَحِّي كُلّ سَنَةٍ. “নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার দশ বছরের প্রতি বছরই কুরবানী করেছেন।”(জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫০৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৪৯৫)

ফিকহের পরিভাষায় নবীজীর এমন নিয়মিত আমল কে বলা হয়- مواظبة النبي صلى الله عليه وسلم (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মিত আমল) এই নিয়মিত আমল- এটাও আমলটি ওয়াজিব হওয়ার বা আবশ্যকীয় হওয়ার আলামত। সুনানে তিরমিযীসহ হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস রয়েছে কুরবানী সম্পর্কিত।

• মিখনাফ বিন সুলাইমান রা. হতে বর্ণিত- أَخْبَرَنَا مِخْنَفُ بْنُ سُلَيْمٍ قَالَ وَنَحْنُ وُقُوفٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- بِعَرَفَاتٍ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِى كُلِّ عَامٍ أُضْحِيَةً وَعَتِيرَةً أَتَدْرُونَ مَا الْعَتِيرَةُ هَذِهِ الَّتِى يَقُولُ النَّاسُ الرَّجَبِيَّةُ. (ابو داود ٢٧٨٨ الترمذي ١٥١٨ ) “মিখনাফ বিন সুলাইম রা. বলেন, আমরা আরাফাতের ময়দানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উকুফ করছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করেন, হে মানুষ সকল! প্রত্যেক পরিবারের কর্তার উপর প্রতি বছর কুরবানি করা আবশ্যক এবং আতিরাও।” (আবু দাউদ হাদিস-২৭৮৮) এ হাদীসে উল্লিখিত “আতিরা” সর্বসম্মতিক্রমে রহিত হয়ে গেছে। কুরবানির বিধান বলবৎ।

• হযরত জুনদুব আল বাজালি রা. বলেন, قال شهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم اضحى ثم خطب فقال من كان ذبح قبل ان يصلي فليعد مكانها…. ومن لم يكن ذبح فليذبح بسم الله (رواه مسلم رقم ١٩٦٠) “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের খুতবাতে ইরশাদ করেন, যারা নামাযের পূর্বে কুরবানি দিয়েছো তারা তার পরিবর্তে অবশ্যই পুনরায় কুরবানি করো। আর যারা তখন কুরবানি করোনি তারা আল্লাহর নামে কুরবানি করো।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-১৯৬০)

• এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলেন- أَوَاجِبَةٌ هِيَ؟ فَقَالَ: ضَحّى رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ وَالمُسْلِمُونَ، فَأَعَادَهَا عَلَيْهِ، فَقَالَ: أَتَعْقِلُ؟ ضَحّى رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ وَالمُسْلِمُونَ. “কুরবানী কি আবশ্যকীয় আমল? তিনি উত্তর দিলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলমানরা কুরবানী করেছেন। লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করলে তিনি এবার বললেন, তুমি কি কিছু অনুধাবন করতে পারছ- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলমানরা কুরবানী করেছেন।” -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫০৬

এখানে দেখা যাচ্ছে, প্রশ্নকারী যে ভাষায় প্রশ্ন করেছেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. অন্য ভাষায় তার উত্তর দিলেন। তিনি নবীজী এবং মুসলমানদের আমলের কথা বললেন। প্রশ্নকারী তখন প্রশ্নটি দ্বিতীয় বার করলেন। তখন ইবনে উমর রা. রাগত ভাষায় বললেন- أَتَعْقِلُ؟ তুমি কি কিছু অনুধাবন করতে পারছ? তিনি আবার আগের উত্তর দিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলমানরা কুরবানী করে এসেছেন। এখানে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কুরবানী মুসলমানদের মাঝে সুন্নতে মুতাওয়ারাছা (নিয়মিত হয়ে আসা আমল) এটা দ্বীনের একটি শিআর।

শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকী উসমানি হাফি. তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিমে বলেন: قال شيخنا في تكملة فتح الملهم : 'ظاهر جواب ابن عمر انه اراد الدلالة على الوجوب لان السائل انما سأله عن الوجوب فلو كانت الاضحية غير واجبة لنفي الوجوب صراحة ولكنه ذكر مواظبة النبي صلى الله عليه وسلم والمسلمين وهو مما يدل على الوجوب، ولم يصرح بالوجوب كي لا يظن تحتمه كتحتم الفرائض ( التكملة ٣ / ٣٠٩) “অনুবাদ,ইবনে উমর রা. এর জবাবে কুরবানি ওয়াজিব হওয়ারই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কেননা, তাঁকে কুরবানি ওয়াজিব কি-না? এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিলো। যদি সত্যিই কুরবানি ওয়াজিব না-ই হতো, তবে তিনি স্পষ্ট ওয়াজিব নয় বলতে পারতেন। তিনি তা না করে রাসূল সা. এর আমলের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করেছেন, যা ওয়াজিব হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করে। আর স্পষ্ট ওয়াজিব বলেননি যাতে কেউ ফরজ ভেবে না বসে।” (তাকমিলাতুল ফাতহুল মুলহিম: ৩/৩০৯)

• শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর মাজমাউল ফাতাওয়া গ্রন্থে রয়েছে واما الاضحية ، فالأظهر وجوبها ، فانها من اعظم شعائر الاسلام وهي النسك العام في جميع الامصار، والنسك مقرون بالصلاة في قوله : قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. وقد قال تعالى: فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ. فامر بالنحر كما امر بالصلاة. “অর্থাৎ কুরবানির ব্যাপারে সর্বাধিক স্পষ্ট মত হল, তা ওয়াজিব। কেননা তা ইসলামের সর্ববৃহৎ নিদর্শন। এটা গোটা উম্মতের জন্য ওয়াজিব হওয়ার-ই দাবী রাখে।

দ্বিতীয়ত কুরবানিকে আল্লাহ তায়ালা নামাযের সাথে যুক্ত করেই পেশ করেছেন, যা ওয়াজিব হওয়ার উপরই প্রমাণ বহন করে।” যেমন- قوله : قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. وقد قال تعالى: فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ. فامر بالنحر كما امر بالصلاة. মাজমাউল ফাতাওয়া ১২/৯৩

তাই ওয়াজিব-সুন্নত নাম যা-ই দেন, কুরবানী থেকে পালিয়ে থাকার সুযোগ নেই। ফুকাহায়ে কেরাম পরিভাষা কী ব্যবহার করেছেন, তার চেয়ে বড় ব্যাপার হল যুগ যুগ ধরে চলে আসা মুসলমানদের আমল এবং আমলের توارث বা পরম্পরা দেখা। মাযহাবী পরিভাষার বিতর্কে না গিয়ে আমরা কুরবানীর ক্ষেত্রে সব যুগে মুসলমানদের আমল দেখলে বুঝতে পারব যে, কুরবানী আবশ্যকীয় একটি আমল এবং ইসলামী শরীয়তের একটি শিআর।

◉ দ্বিতীয়ত প্রতি বছর কুরবানীর সিজন আসলেই “অনেক সেকুলারপন্থী বুদ্ধিজীবীরা -এবার কুরবানী না করে বিকল্প কিছু করার প্রস্তাবও তারা দিয়ে থাকেন।” যদিও ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা তাদের এসব কথায় কান দেয় না। ইসলামী শরীয়ত মতে ওয়াজিব কুরবানির অর্থ অন্যত্র ব্যবহার করলে কুরবানি আদায় হবেনা। কুরবানী না করার কারণে গুনাহগার হতে হবে। কারণ‘কুরবানী ইসলামের শিআর : করোনা বা বন্যার্তদের অজুহাতে এতে ছাড়ের সুযোগ নেই।’

• কুরবানী কিংবা অন্য কোনো ইবাদতের অর্থ বন্যার্ত কিংবা গরিবদের খাতে দেওয়ার প্রস্তাবনার প্রয়োজন নেই, ইসলামের বিধানেই যাকাত-সদাকাসহ সাধারণ দানের বহু খাত বরাদ্দ আছে, নির্দেশনাও আছে। বিত্তবান নাগরিকদের উদ্যোগে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্য থেকে সেসব খাতে দান করতে হবে। ইসলামী অনুশাসন যথাযথভাবে অনুসরণ করলে গরিবকে সহযোগিতা করার যেসব উৎস ও খাত রয়েছে তারা সে সম্পর্কে জানতে পারবে।

•কুরবানী-হজ্ব ইত্যাদি ইবাদতের অর্থ বন্যার্ত বা গরিবের মাঝে দান করে দেওয়ার ‘বিকল্প’ প্রস্তাব না দিয়ে তারা বরং ইসলামে দানের যে স্বতন্ত্র বিধান রয়েছে, সেটার ওপর আমল করুন। কুরবানী বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা না করে সেই নফল দান তাদের করতে দেখা যায় না কেন?

•তাই কুরবানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নিয়ে ‘বুদ্ধিজীবীদের’ এসব অন্তঃসারশূন্য ও নৈরাজ্যকর মতামতের কোনো মূল্য নেই। এবং তাদের এসব মতামতের পেছনে কোনো সুফল বা সদুদ্দেশ্যও নেই। সংগৃহীত - হানাফি ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে, খাইরুল ইসলাম


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১২

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চেয়ে রিট খারিজ

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চেয়ে রিট খারিজ