ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬ , ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২২ সফর ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
তনু হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য জামিনে মুক্ত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১ এ আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু পতেঙ্গা-হাতিয়া-কুতুবদিয়া শিপিং চ্যানেলে জালের জড়ালে মারাত্মক নৌ-ঝুঁকি রূপপুর গ্রিন সিটিতে রুশ নাগরিকদের মারামারি: নিহত ১ গাজীপুরের কাশিমপুর ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত শহীদ মিনারের সেই ঐতিহাসিক "এক দফা" -র ২ বছর পূর্তি ইরানের গোপন তথ্য ইসরায়েলে পাচারের অভিযোগে দুই নাগরিকের মৃত্যুদন্ড জুলাই আন্দোলনে দায়িত্বে থাকা ৪১ পুলিশ কর্মকর্তা এখনো বহাল চুয়াডাঙ্গায় পারিবারিক বিরোধে বুলডোজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ি ভাঙচুর মস্কোর রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণ: নিহত ৩ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে অংশগ্রহণ ইরানবিরোধী নয়: হুমায়ুন কবির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির গুঞ্জন আগস্টে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করল ইসি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর ও বিয়েতে কেউ বাধা দিতে পারবে না: এলাহাবাদ হাইকোর্ট ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল ও নদীদূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন, নিহত ৫ ও নিখোঁজ ৪১ চীনে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের বেড়ে ২৫, সুপার টাইফুনের শঙ্কা রংপুরে এএসআই নিয়োগে জাল প্রবেশপত্র চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি: ১৪ দফার খসড়া চূড়ান্ত, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শেষের ইঙ্গিত

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০৭-০৫-২০২৬ ০১:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৭-০৫-২০২৬ ০১:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • ৪ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৮ বার পঠিত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি: ১৪ দফার খসড়া চূড়ান্ত, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শেষের ইঙ্গিত ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সলা বিন ফারহান আজ বুধবার (৬ মে) ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

ফোনালাপকালে দুই মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করেন। তারা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেন।

এদিকে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানের একটি সূত্র এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছে বলে বুধবার (৬ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়ার লক্ষ্যে শুরু করা অভিযানটি স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই হোয়াইট হাউস মনে করছে, তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে জবাব আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর দুই পক্ষ এবারই চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছে।

শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন এই আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। সূত্রটি জানায়, যদি উভয় পক্ষ প্রাথমিক চুক্তিতে সম্মত হয়, তবে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।

সম্ভাব্য এ চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে অ্যাক্সিওস বলেছে, চুক্তির আওতায় ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার ফেরত দেবে। এছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে।

এ সমঝোতা স্মারকের অনেক শর্তই চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করছে। ফলে আবারও যুদ্ধ শুরু বা দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরির আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্মুখযুদ্ধ থামলেও শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান না-ও হতে পারে।

হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কয়েক ভাগে বিভক্ত। ফলে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা কঠিন হতে পারে। এমনকি প্রাথমিকভাবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে কি না, তা নিয়ে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তবে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানের ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন। মূলত আলোচনায় অগ্রগতির কারণেই তিনি এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক পৃষ্ঠার ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক নিয়ে এখন দর–কষাকষি চলছে। সমঝোতা স্মারকের বর্তমান খসড়া অনুযায়ী, এই অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করা হবে।

এরপর শুরু হবে ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনা। এ সময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তারিত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।

সূত্রের দেয়া তথ্য বলছে, এই আলোচনা ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় হতে পারে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওই ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দেয়া বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পর্যায়ক্রমে তুলে নেয়া হবে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন বাহিনী আবার অবরোধ আরোপ করতে পারবে, অথবা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।

মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার মেয়াদ নিয়ে মূল দর–কষাকষি চলছে। তিনটি সূত্র বলছে, এই মেয়াদ হবে অন্তত ১২ বছর। একটি সূত্র জানায়, এটি ১৫ বছর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের দাবিতে অটল ছিল।

সূত্রটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে এমন একটি শর্ত যুক্ত করতে চায়, যাতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নিয়ম ভাঙলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বেড়ে যাবে। আর এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্ন মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।

সমঝোতা স্মারকে ইরান অঙ্গীকার করবে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এ–সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডেও জড়াবে না তারা। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান যেন কোনো ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করে, এমন একটি ধারা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করছে।

ওই কর্মকর্তার মতে, ইরান কঠোর তদারকি ব্যবস্থার আওতায় থাকতেও রাজি হবে। ফলে জাতিসংঘের পরিদর্শকেরা যেকোনো সময় ইরানি স্থাপনায় আকস্মিক পরিদর্শন (স্ন্যাপ ইন্সপেকশন) করতে পারবেন।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। বিনিময়ে বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলার অর্থ পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেবে ওয়াশিংটন।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র দাবি করেছে, ইরান তাদের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে রাজি হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। তবে তেহরান এত দিন সেটা মানতে চায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।