বর্তমান সময়ে ওজন কমানো, ফিট থাকার লক্ষ্য নিয়ে অনেকেই ডায়েট শুরু করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত নানা ডায়েট চার্ট দেখে অনেকে তা অনুসরণ করছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম না মেনে কিংবা নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা না করে ডায়েট শুরু করলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরের সুস্থতার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালরি ও পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। কিন্তু অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর আশায় খাবার একেবারে কমিয়ে দেন অথবা একঘেয়ে খাবার গ্রহণ করেন। এতে শরীরে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমিভাব, মনোযোগের অভাব এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ভুল ডায়েট অনুসরণ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এতে সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া চুল পড়া, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া, নখ ভেঙে যাওয়া এবং শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, অনেক জনপ্রিয় ডায়েট পদ্ধতি যেমন—কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ বা তরল ডায়েট—সব মানুষের জন্য উপযোগী নয়। এসব ডায়েট অল্প সময়ের জন্য ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, হজমে সমস্যা এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভুল ডায়েটের কারণে ওজন কমার পরিবর্তে উল্টো বেড়ে যায়। কারণ শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, ফলে শরীর কম ক্যালরি খরচ করে এবং চর্বি জমতে শুরু করে। এতে করে ডায়েটের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, প্রতিটি মানুষের শরীরের গঠন, বয়স, দৈনন্দিন কাজের ধরন ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভিন্ন। তাই একেকজনের জন্য ডায়েট প্ল্যানও ভিন্ন হওয়া উচিত। অন্যের ডায়েট কপি করে অনুসরণ করা অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট