দেশজুড়ে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা শুরু হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলেও দ্রুত পানি বাড়ছে এবং যেকোনো সময় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নিকলীতে সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভোলায় ১৫১, ফেনীতে ১৪৮, ময়মনসিংহে ১১৫ এবং চট্টগ্রামে ৯২ মিলিমিটারসহ মোট ৯টি জেলায় অতিভারি বর্ষণ হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
নদী পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। নেত্রকোণার ভুগাই-কংশ নদী বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী ৫০ সেন্টিমিটার, মগরা ২ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজারের মনু নদী ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, নেত্রকোণা ও মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং হবিগঞ্জ, সিলেট ও সুনামগঞ্জেও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং বিভিন্ন নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট