মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের সুঙ্গাই বুলোহ কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানি বন্দি মুহাম্মদ হাসানকে ৯ দিনের অভিযানের পর পুনরায় গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত এই বন্দিকে ধরতে গোয়েন্দা সংস্থাকে দীর্ঘ সময় ধরে জটিল ও কৌশলী অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ৯ এপ্রিল শাহ আলম আদালত-এ হাজিরা শেষে কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশি ট্রাক থেকে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। এরপর থেকেই তাকে গ্রেফতারে মাঠে নামে অভিবাসন বিভাগের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশনস ডিভিশন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও নাবালিকাকে নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান সম্পর্কে বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনাস মোহাম্মদ জারিব জানান, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ডের তথ্য যাচাই করে প্রথমে সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করা হয়। যদিও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি, তবে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে তিনি পশতুন বংশোদ্ভূত—যা অনুসন্ধানকে আরও নির্দিষ্ট করে।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধরা এড়াতে তিনি কয়েকদিন দিনের বেলায় নির্মাণস্থলের পাশের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতেন এবং রাতে নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নিতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সেখান থেকেই পোশাক সংগ্রহ করতেন বলে স্বীকার করেছেন।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ১৮ এপ্রিল অভিযানটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। গোয়েন্দারা তথ্যদাতাদের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করেন এবং বনসংলগ্ন এলাকায় কৌশলে ঘিরে ফেলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাইরে বের হওয়ার সুযোগ দিলে তাকে ঘিরে ফেলে গ্রেফতার করা হয়। পালানোর শেষ চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তিনি।
সেদিন বিকেল ৫টার দিকে গোম্বাক লামা রোড এলাকার ১৪ মাইল অঞ্চল থেকে তাকে আটক করা হয়। সফল এই অভিযানে সহায়তা করা সংশ্লিষ্ট সংস্থা, তথ্যদাতা এবং পাকিস্তান হাইকমিশন-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ডেস্ক রিপোর্ট