যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকদের উদ্বেগ কাটেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলো আগের লোকসান পুষিয়ে রেকর্ড উচ্চতায় উঠলেও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং যেকোনো সময় পুনরায় সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকিতে পড়ায় ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরান উভয় পক্ষই যুদ্ধের অবসান চাইছে। ট্রেড নেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ডেভিড মরিসন জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হলেও জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে শঙ্কা এখনো রয়ে গেছে। ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানাহ স্ট্রিটারও সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বাড়লেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ না কমায় বাজারের অস্থিরতা বিদ্যমান থাকছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি সামলাতে গিয়ে এই অঞ্চলের অনেক দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট