মোবাইল গ্রাহকদের আর্থিক চাপ কমাতে আসন্ন বাজেটে শুল্কহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, বর্তমান কর কাঠামোর কারণে গ্রাহকরা প্রকৃত সেবার তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করছেন, যা কমিয়ে স্বস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক ব্রডব্যান্ড এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে গ্রাহকরা প্রকৃতপক্ষে মাত্র ৬২ টাকার সেবা পান, বাকি ৩৮ টাকা বিভিন্ন কর ও শুল্ক হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। এই অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে সরকার নীতিগত পরিবর্তনের কথা ভাবছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী ইন্টারনেটের দাম আরও কমানোর আহ্বান জানান, যাতে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। তিনি মনে করেন, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, টেলিকম খাতের উন্নয়ন এবং সেবার মান বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খাত সংশ্লিষ্টদের দাবির প্রেক্ষিতে ব্রডব্যান্ড সেবাদাতাদের জন্য ‘অ্যাকটিভ শেয়ারিং’ সুবিধা চালুর বিষয়টিও দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান নীতিনির্ধারকেরা।
বর্তমানে মোবাইল সেবায় ২৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, প্রায় ১৮ শতাংশ কার্যকর ভ্যাট এবং ১ শতাংশ সারচার্জ প্রযোজ্য রয়েছে। ফলে মোট করের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৮ শতাংশ, যা সরাসরি গ্রাহকদের ওপর প্রভাব ফেলে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সাড়ে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল সংযোগ রয়েছে, যাদের ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে চারটি অপারেটর।
ডেস্ক রিপোর্ট