চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে ১০ দিনের ঐতিহাসিক অভিযানের পর আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন। মহাকাশ সংস্থা NASA জানিয়েছে, তারা সুস্থ আছেন। তবে মহাকাশ ভ্রমণের পর সাধারণত নভোচারীদের শরীর ও মনে যে পরিবর্তন দেখা যায়, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে শক্তিশালী এসএলএস রকেটে চড়ে যাত্রা শুরু করে Artemis II। ১০ দিনের এই অভিযানে চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযান শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রশান্ত মহাসাগরে প্যারাশুটের মাধ্যমে অবতরণ করে। যদিও নভোচারীদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ভালো, তবুও বিস্তারিত স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন এখনো প্রকাশ করেনি নাসা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বাইরে যাওয়াই এসব পরিবর্তনের মূল কারণ। Isaac Newton-এর আবিষ্কৃত মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব অনুযায়ী, ভরযুক্ত বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। কিন্তু মহাকাশে এই আকর্ষণ শক্তি প্রায় অনুপস্থিত থাকায় মানবদেহে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শূন্য মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে নভোচারীদের পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। বিশেষ করে পিঠ, ঘাড় ও পায়ের মাংসপেশী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর হাঁটতে কষ্ট, মাথা ঘোরা এবং ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া মস্তিষ্কে তরল জমা, চোখের গঠনে পরিবর্তন, দৃষ্টিশক্তি ও ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, এমনকি মনোযোগে ঘাটতির মতো সমস্যাও দেখা যায়। দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থান করলে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা এবং উচ্চ মাত্রার রেডিয়েশনের কারণে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ত্বক সংবেদনশীল হয়ে ওঠা এবং র্যাশের মতো সমস্যাও অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
তবে মহাকাশ ভ্রমণের কিছু ব্যতিক্রমী প্রভাবও রয়েছে। Albert Einstein-এর আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, উচ্চগতিতে ভ্রমণ ও মাধ্যাকর্ষণ কম থাকার কারণে মহাকাশে সময় তুলনামূলক ধীরে অতিক্রম করে। ফলে দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকা নভোচারীরা পৃথিবীর মানুষের তুলনায় সামান্য কম বয়সী মনে হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আর্টেমিস-২ মিশনের সময়কাল তুলনামূলক কম হওয়ায় নভোচারীদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের শারীরিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবুও মহাকাশ ভ্রমণের প্রভাব নিয়ে গবেষণা ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে।
ডেস্ক রিপোর্ট