ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটিতে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। আলোচনার শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া এ বক্তব্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে এবং রণতরীগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘রিসেট’ বা নতুন সামরিক বিন্যাস হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, আলোচনায় সমাধান না এলে এসব উন্নত অস্ত্র কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে।
ইসলামাবাদে শুরু হওয়া সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা সফল হবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানা যাবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আলাদা বার্তায় ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি দেশটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করার ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদলের প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থাহীনতার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে আলোচনা চলাকালেই একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে, যা বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করেছে।
গালিবাফ বলেন, ইরানের সদিচ্ছা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থা নেই। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত চুক্তিতে আগ্রহী হয় এবং ইরানের অধিকার মেনে নেয়, তাহলে তেহরানও সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত থাকবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি দুই পক্ষ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমঝোতা টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট