জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টেলিকম অবকাঠামোর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে Association of Mobile Telecom Operators of Bangladesh (এমটব)।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট দেশজুড়ে টেলিযোগাযোগ সংযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে টেলিকম কার্যক্রমে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার শুরু থেকেই মোবাইল অপারেটররা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সরকারকে সতর্ক করে আসছে। সরকার ইতিবাচক নির্দেশনা দিলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়ে গেছে বলে দাবি করেছে এমটব।
সম্প্রতি ঝড়ের কারণে Rural Electrification Board (আরইবি)-এর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে এবং অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে এই সমস্যা বেশি প্রকট, যা টেলিকম নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এমটব জানিয়েছে, দেশের টেলিকম অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাওয়ার, একাধিক ডেটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) এবং হাজারো বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস)। এসব স্থাপনা ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এসব নেটওয়ার্ক ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে এমটব সরকারের কাছে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যেমন—
-
টেলিকম স্থাপনাগুলোর জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ
-
রক্ষণাবেক্ষণ পরিবহনের জন্য আলাদা জ্বালানি বরাদ্দ
-
গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় লোডশেডিং কমানো
-
দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু একটি সেবা নয়, এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। এটি ব্যাহত হলে ই-কমার্স, ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, রাইড-শেয়ারিংসহ প্রায় সব ডিজিটাল কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
এ অবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা বজায় রাখতে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেস্ক রিপোর্ট