বন্দর সূত্র জানায়, শাহ আমানত সেতুর উজান ও ভাটিতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর বর্তমানে নদীতে সংরক্ষণ ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত এলাকার আটটি খালের মুখে ড্রেজিং করায় এসব খালের নাব্যতা বেড়েছে। এতে নগরের ব্যবহৃত পানি সহজে নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এদিকে বাকলিয়া চর, শিকলবাহা, নাজিরচর ও কালুরঘাট এলাকায় নদীর অগভীর অংশে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন–২০২২ অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিয়ে নির্দিষ্ট গভীরতা বজায় রেখে ড্রেজিংয়ের অনুমতি দিয়েছে। এর আগে এসব এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অবৈধভাবে বালি ও মাটি উত্তোলনের ঘটনা ঘটত বলে বন্দর সূত্র জানিয়েছে।
তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গত বছরের ৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ড্রেজিং ও ডাম্পিং কার্যক্রম বন্ধ রাখতে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে ১ মার্চ থেকে কাজ শুরু হলেও সমপ্রতি বাকলিয়া থানা থেকে আবারও এ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে। চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘদিন ড্রেজিং বন্ধ থাকলে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা দ্রুত কমে যেতে পারে। এতে বন্দরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে কর্ণফুলী নদীর উজানে বন্দরের নিয়োজিত ঠিকাদারদের মাধ্যমে ড্রেজিং ও ডাম্পিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা সহায়তা প্রদানের জন্য সিএমপি কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে বিষয়টিকে জরুরি উল্লেখ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট