গাজার সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে রাফা সীমান্ত ক্রসিং নিয়ে নতুন এক বিতর্কিত শর্ত আরোপ করেছে ইজরায়েল। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, রাফা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫০ জন ফিলিস্তিনিকে গাজা থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এর বিপরীতে প্রতিদিন গাজায় প্রবেশ করতে পারবেন মাত্র ৫০ জন ফিলিস্তিনি। ইজরায়েলের এই '৩:১ অনুপাত' নীতি গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি রাফা ক্রসিং পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও ইজরায়েলের এমন কঠোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক শাখা 'কোগাট' (COGAT)-এর তথ্যানুযায়ী, গাজা থেকে যারা বের হবেন এবং যারা প্রবেশ করবেন, উভয় পক্ষকেই ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর স্ক্রিনিং বা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মূলত অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী এবং বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সীমিত তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ইজরায়েলের এই অসম যাতায়াত ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে মিশর এই নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কায়রোর দাবি, যারা চিকিৎসার জন্য বাইরে যাচ্ছেন, তাদের ফিরে আসার পথও সমানভাবে সহজ হওয়া উচিত। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মুমূর্ষু রোগী গাজার বাইরে উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকলেও প্রতিদিন মাত্র ১৫০ জনের এই সীমা তাদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই নতুন শর্তের ফলে গাজার জনতাত্ত্বিক কাঠামো এবং মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমও ধীর হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা