জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জানিয়েছে, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটির রায় যে কোনো দিন ঘোষণা করা হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ তথ্য জানায়। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, যুক্তিতর্ক শেষে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রহমানসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেফতার রয়েছেন এবং বাকি ২৪ জন পলাতক অবস্থায় আছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত নথিপত্রের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণে তারা পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আদালতে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতের কাছে তাদের মক্কেলদের খালাস চেয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে কারাগার থেকে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। হাজির হওয়া আসামিরা হলেন— এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ। তবে মামলার অন্যতম আসামি বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রহমানসহ আরও ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয় এবং ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা তাদের প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেয়। পরে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে ২২ জুলাই চারজন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট