আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দেশের বহুল প্রতীক্ষিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভোটারদের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাহিনীটিকে অতীতের ন্যায় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ড. ইউনূস মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষের জন্য এবারের নির্বাচন হবে নিজেদের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের চূড়ান্ত মাধ্যম। বিশেষ করে তরুণ ভোটার যারা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন, তাদের জন্য একটি শঙ্কামুক্ত পরিবেশ তৈরি করাকে তিনি রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিগত সরকারের সময় অবহেলিত এই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, ইতালি ও জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাহিনীকে বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও বজায় রাখবে। (সূত্র: বাসস)
ডেস্ক রিপোর্ট